মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কিরণের মেডিকেলে পড়ার দায়িত্ব নিলেন ইকবাল হোসেন অপু এমপি

কিরণের মেডিকেলে পড়ার দায়িত্ব নিলেন ইকবাল হোসেন অপু এমপি
কিরণের মেডিকেলে পড়ার দায়িত্ব নিলেন ইকবাল হোসেন অপু এমপি

কিরণ মিয়া ডাক্তারী বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। মূহুর্তেই এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে শরীয়তপুরের আনাচেকানাচে। বাদ পড়েনি এমপি, ডিসি, এসপি ও মেয়র। খবর পেয়ে তারাও খুঁজে নেয় কিরণের ঠিকানা।
কেই এই কিরণ মিয়া? কিরণ মিয়া শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি এলাকার আব্দুর রহমান মিয়ার ছেলে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে লেখাপড়া করে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেনিতে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জণ করে কিরণ। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় কিরণের। পিতার সাথে কাঠমিস্ত্রী কাজ করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে হাল ধরলেও লেখাপড়া থেকে পিছপা হয়নি কিরণ। ২০১৮ সালে পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে শরীয়তপুর সরকারী কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে অটো পাস করে সে। মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় কিরণ। এক লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীর সাথে ভর্তি পরীক্ষার যুদ্ধে নামে কিরণ। সফলতার সাথে মেধা তালিকায় ২৭০১তম স্থান দখল করতে সক্ষম হয় সে। সুযোগ পেয়ে যায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে অধ্যায়ণের। কিরণ মিয়ার পড়ালেখার সকল খরচের অভিভাবক হয়ে যায় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু।
কিরণের পিতা আব্দুর রহমান মিয়া জানায়, আমি একজন কাঠমিস্ত্রী ছিলাম। পরবর্তীতে পেশা পরিবর্তণ করে শরীয়তপুরের চৌরঙ্গী এলাকায় ফুটপাতে চা বিক্রি করি। ছেলে পড়ালেখায় মনযোগী ছিল তাই অনেক কষ্টের মধ্যেও লেখাপড়া করিয়েছি। আল্লাহ আমার ছেলের মুখের দিকে তাকিয়েছে। এবার ছেলে মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেয়েছে। দু:শ্চিন্তায় ছিলাম মেডিকেলে পড়ানোর মতো খরচ আমি বহন করতে পারব কিনা। এমন সময় ইকবাল হোসেন অপু এমপি আমার ছেলের পড়ালেখার খরচ বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ডিসি, এসপি, মেয়রসহ অনেকে পাশে দাঁড়িয়েছে। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
কিরণের মা পারুল আক্তার জানায়, কিরণের চেষ্টাতেই আল্লাহ ওকে এই পর্যায়ে নিয়েছেন। ওকে কখনই পড়তে বসতে বলা লাগেনি। মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা দেয়ার পূর্বে সারারাত লেখাপড়া করতো। অনেক সময় ফজর নামাজ পরে ঘুমাতো। কিরণ অনেক চেষ্টা করেছে বলেই আজ মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। সকলের সহযোগিতায় ও আল্লাহর রহমতে আমার ছেলে একদিন ডাক্তার হয়ে সমাজের সেবা করবে।
মেধাবী ছাত্র কিরণ মিয়া জানায়, পিতার সাথে কাঠমিস্ত্রীর কাজ করেছে। পরবর্তীতে ছাতার নিচে বসে বাবা চা বিক্রি করত। দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগাতে পিতার সাথে চাও বিক্রি করেছে সে। তার স্বপ্ন ছিল আকাশচুম্বি। পড়ালেখা করে ডাক্তারি পড়বে এবং সমাজের চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াবে। আজ আল্লাহর অশেষ রহমতে মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে কিরণ। সে সকলের সহযোগিতা কামনা করছে।
ইকবাল হোসেন অপু এমপি বলেন, কিরণ মিয়া আমাদের গর্ব। সে প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজের চেষ্টায় আজ মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে মেডিকেল কলেজে পড়ার খরচ বহন করা সম্ভব না। এই মূহুর্তে কিরণের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। আমি কিরণের পড়ালেখার সকল খরচ বহন করব। আমি আশা করব সমাজের প্রতিটি ঘরে যেন এই ধরণের কিরণের জন্ম হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।