সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভাসুরের হামলায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী হাসপাতালে

ভাসুরের হামলায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী হাসপাতালে
ভাসুরের হামলায় আহত প্রবাসীর স্ত্রী লাকি বেগম। ইনসেটে হামলাকারী মফিজুল। ছবি-দৈনিক হুংকার।

গোসাইরহাটে প্রবাসীর স্ত্রী ভাসুর মফিজুলের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে লাকি বেগম (২৩)। এসময় ঘরে থাকা ছোট ভাইয়ের পাঠানো প্রায় ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভাসুরের হামলার পরে আহত অবস্থায় গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তির জন্য পাঠান।
অভিযোগ রয়েছে ভাসুরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইতিপূর্বেও দুইবার তাকে প্রহার করেছে। ভাসুরের নির্যাতন সইতে না পেরে ওমান প্রবাসী জাকির হোসেন এর স্ত্রী ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে আলাদা বসবাস করতেন। পরে শ্বাশুরীর আহবানে ২ পুত্রকে নিয়ে আবার গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। সেখানেই লাকি ও তার শ্বাশুরী বসবাস করেন। ভাসুর মফিজুল আলাদা বাড়িতে থাকেন।
লাকি বেগম জানান, ২৫ এপ্রিল রোববার সকালে শ্বাশুরীর সাথে ঘরের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কথা চলছিল। এমন সময় ভাসুর মফিজুল এসে কথায় ভাগড়া দেয়। তখন আমার স্বামীর পাঠানো ৮০ হাজার টাকা যা আমার নুর উদ্দিন কাকার কাছ এনে ঘরে রাখি। সে টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমার ঘরে থাকা টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলে আমি বাধা দেই। এসময় সে কোন কারণ ছাড়াই আমাকে কিলঘুষি মারতে শুরু করে। আমি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তখন আমাকে ঝাপটে ধরে স্পর্ষকাতর স্থানে হাতাহাতি করে। এক পর্যায়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়াতে শুরু করে। আমি আত্মচিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার ঘরে রাখা ৮০ হাজার টাকা ও দুইটি দলিল নেই।
আহত লাকির বড় ভাই মাওলানা মাসুদুর রহমান জানান, আমার ভগ্নিপতি জাকির হোসেন প্রায় ৭/৮ বছর যাবৎ ওমানে প্রবাসী জীবন কাটাচ্ছে। সর্বশেষ দুই বছর আগে সে দেশে এসে ঘুরে গেছেন। তার বড় ভাই মফিজুল ইসলাম বিভিন্ন ভাবে আমার বোনকে যৌন হয়রানি করতো বলে জানিয়েছে। ইতিপূর্বেও ২/৩ বার সে আমার বোনের উপর হামলা করেছে। সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল সকাল বেলা আমার বোনের ওপর হামলা করে। এ সময় মফিজুল আমার বোনে ঘরে থাকা দুইটি দলিল ও নগদ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট হাসপাতালে নেওয়ার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতারে প্রেরণ করেন। বতর্মানে লাকি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। আমরা রোগীর চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় এখনো মামলা করতে পারিনি। তবে ২৬ এপ্রিল গোসাইরহাট থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ করবো।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মফিজুলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন ০১৭৬৮৩৮৭৮৫৫ নাম্বারে বার বার ফোন দেওয়ার পরেও সে রিসিভ করেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।