শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরে ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর শেষ আশ্রয় সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু

শরীয়তপুরে ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর শেষ আশ্রয় সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু

বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারনে সৃষ্ট বিশ্ব মন্দায় গোটা পৃথিবীর শত কোটি মানুষ এখন ক্ষুধার যন্ত্রনায় ছটফট করছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কর্মহীন নিন্ম আয়ের মানুষের অবস্থাও এর থেকে ব্যতিক্রম নয়। দেশের অন্যতম দারিদ্রপ্রবন জেলা শরীয়তপুর। জেলার মোট ভূ-খন্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই চরাঞ্চল। শরীয়তপুর-১ নির্বাচনী এলাকার জাজিরা উপজেলার হাজার হাজার পরিবার চরাঞচলের অধিবাসী। তারা নদী ভাঙ্গন সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে আছে যুগের পর যুগ। বর্তমান এই মহাসংকটে ক্ষুধার জ্বালা হানা দিয়েছে তাদের ঘরেও।

শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ২৫টি ইউনিয়নের অন্তত ৬০-৭০ হাজার পরিবার কর্মহীন হয়েছে গত দুই মাসে। তাদের পরিবার গুলোতে যখন খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে দেখা দিচ্ছিল তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মানবিক সহায়তার হাত প্রসারিত করে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন অপু। গত দুই মাস যাবৎ হাজার হাজার ক্ষুধার্ত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে রাতে-দিনে, প্রকাশ্যে-গোপনে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছে অপুর একঝাক কর্মী বাহিনী। সরকারি ত্রান সহায়তার পাশাপাশি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে গত ৫০ দিনে ইকবাল হোসেন অপু দলীয় ব্যানার ও তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত আলহাজ এ্যাডভোকেট সুলতান হোসেন মিয়া ফাউন্ডেশনের নামে ৪০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। জুন মাসের আগ পর্যন্ত আরো ৩০ হাজার পরিবারের কাছে খাদ্য পৌছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সাংসদ অপুর।

গত ১৫ এপ্রিল থেকে শরীয়তপুর জেলা লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। তার এক মাস আগে থেকেই ত্রান সহায়তা প্রদান শুরু করেছেন অপু। তার নির্বাচনী এলাকার খেটে খাওয়া কৃষি শ্রমিক, দিন মজুর, রিক্সা চলাল, ভ্যান চালক, অটোরিক্সা চালক, ঠেলা গাড়ি শ্রমিক, বাস-ট্রাক শ্রমিক, ধোপা, নরসুন্দর, ভাসমান জনগোষ্ঠী, বেদে সম্প্রদায়, তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক, প্রতিবন্ধি, নির্মাস শ্রমিক, কাঠ মিস্ত্রি, চা দোকানী, গ্যারেজ মিস্ত্রি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফেরিওয়ালা, কুটির শিল্পের শ্রমিক সহ নানা শ্রেনির কর্মহীন নিন্মবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন অপু‘র কর্মী বাহিনী। ৫-১০ কেজি চাল, মুশর ডাল, ভোজ্য তেল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, চিনি, লবন, চিড়া, মুড়ি, ছোলা, সাবান থাকছে প্রতিটি খাদ্য সহায়তা প্যাকেটে। শুধু খাদ্য সহায়তা প্রদান করেই থেমে থাকেননি অপু। শুরু থেকেই গোটা নির্বাচনি এলাকাকে করোনা ভাইরাসমুক্ত রাখতে গণসচেতনতামূলক প্রচারনা, লিফলেট বিতরণ, জীবানুণাশক ঔষধ ছেটানো কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এর বাইরেও নিজের অর্থায়নে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদেরকে মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার সহ পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করেছেন। ইকবাল হোসেন অপু করোনা মোকাবেলায় বিশেষ এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে মেডিকেল টিম গঠন করে ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানেরও ব্যবস্থা করেছেন।

গত ১৮ মার্চ থেকেই সাংসদ অপুর নির্দেশে জেলা সদরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ, শরীয়তপুর পৗেরসভা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছা সেবকলীগ সহ দলীয় অঙ্গ-সহযোগি ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতা কর্মীরা এবং জাজিরা উপজেলার নেতা-কর্মীরা গোটা নির্বাচনি এলাকায় সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। সাংসদের নির্দেশে বিশেষ করে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য কামরুজ্জামান উজ্জল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন সহ পৌরসভা আ‘লীগের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের নেতা-কমীরা এই দুর্যোগে বিপুল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। আপদাপন্ন মানুষকে সহায়তার জন্য মোবাইল ফোনে হট লাইন চালু করেছেন অপুর স্বেচ্ছাসেবী টিম। রাত আর দিন নেই, যে কোন সময়ে, নির্বাচনী এলাকার যে কোন স্থান থেকে অভাবী মানুষের কন্ঠস্বর ভেসে আসলেই দ্রততার সাথে খাদ্য সহায়তা সহ যে কোন সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছেন অপুর মানবিক যোদ্ধারা।

রমজান মাসের শুরু থেকেই জেলা শহর ও এর আশে পাশে ইফতারের পূর্বে রোজাদার পথচারি ও শ্রমিকদের হাতে প্রস্তুতকৃত ইফতারির প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন অপুর কমীরা। ইতমধ্যে সুলতান হোসেন মিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ঈমাম ও মুয়াজ্জিনদের দেয়া হয়েছে বিশেষ খাদ্য সামগ্রীর উপহার। ইকবাল হোসেন অপুর নির্দেশে ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা-কর্মীরা পালং-জাজিরায় অনেক কৃষকের পাকা ইরি ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিয়েছেন। ৮ মে থেকে শেখ হাসিনা ঘোষিত বাড়ির আঙ্গিনায় সব্জি চাষ কর্মসূচির আওতায় ঘরে ঘরে সশ্যবীজ পৌছে দিচ্ছেন অপু‘র কর্মীরা। তারা সদর উপজেলার পৌরসভা, রুদ্রকর, আঙ্গারিয়া, চিতলিয়া, বিনোদপুর, মাহমুদপুর, চন্দ্রপুর, চিকন্দী, শৌলপাড়া, ডোমসার, তুলাসার ও পালং ইউনিয়ন এবং জাজিরা পৌরসভা সহ কুন্ডেরচর, বিলাশপুর, বড়কান্দি, পালের চর, পূর্ব নাওডুবা, পশ্চিম নাওডুবা, বিকে নগর, সেনেরচর, গোপালপুর, জয়নগর, মূলনা ও জাজিরা ইউনিয়নে সব্জি বীজ বিতরণ শুরু করেছেন। পেঁপে, লাউ, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, পুঁই শাক, লাল শাক, ঢেরশ ও ডাটা বীজ বিতরণ করা হবে নির্বাচনী এলাকার অন্তত তিন হাজার পরিবারকে।

ইকবাল হোসেন অপু এম.পি কর্তৃক বিশ্বব্যাপী এই মহামারির দুর্যোগ মুহুর্তে খাদ্য সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে গোটা জেলা ব্যাপী। অসহায় মানুষের মুখে মুখে এখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে অপু এবং তার কর্মী বাহিনীর প্রশংসা। ঘরে ঘরে কর্মহীন মানুষ এই পবিত্র রমজান মাসে ইকবাল হোসেন অপুর জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘হাত তুলে দোয়া করছেন।

সদর উপজেলার হাজৎখোলা গ্রামের নি:সন্তান আলাতুন নেছা ইকবাল হোসেন অপুর দেয়া খাদ্য সহায়তা পেয়ে বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ্য-বিছিানায় পরা, কোন আয় রোজগারের উপায় ছিলনা। ঘরে কোন খাদ্যও ছিলনা। না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছিল। এমন সময় কার কাছ থেকে যেন খবর পেয়ে এম.পি সাহেবের লোকেরা আমার বাড়িতে দশ কেজি চাল, ডাল তেল, লবন, পিয়াজ, আলু, চিনি, চিড়া, মুড়ি, ছোলা ও সাবান পৌছে দেয়। হঠাৎ এত উপহার পেয়ে মনে হলো আল্লাহ আমার ঘরে তার রহমত ঢেলে দিয়েছেন। আমি আল্লাহর কাছে এম.পি সাহেবের জন্য প্রান খুলে দোয়া করি, তাকে যেন আল্লাহ অনেক দিন হায়াত দান করে। তিনি যেন সারা জীন এভাবেই মানুষের সেবা করে যেতে পারেন।

জাজিরা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ভোলাই শিকদারকান্দি গ্রামের ভ্যান চালক তারা মিয়া আকন বলেন, অনেক দিন যাবৎ ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে পারিনা। ছেলে সন্তান, বৃদ্ধ মা বাবা নিয়ে অনেক বিপদে ছিলাম। আমাদের এম.পি অপু মিয়া আমাকে কয়েকবারই ত্রান দিয়ে সাহায্য করেছেন। তার উছিলায় দুই বেলা দুইটা ভাত খাওয়ার সুযোগ আল্লাহ করে দিছেন। আমরা এমন মানব দরদী এম.পি সব সময়ই চাই।

শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান উজ্জল বলেন, ইতিমধ্যে সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু ঘোষনা দিয়েছেন, তার নির্বাচনী এলাকার একটি মানুষও যেন অভূক্ত না থাকেন। আমরা তার নির্দেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি। এম.পি মহোদয় হট লাইন খুলে দিয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে কোন্ বাড়িতে, কোন্ লোকটি অনাহারে রয়েছেন তার বাড়িতে দ্রæত খাদ্য পৌছে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যতদিন এ দুর্যোগ থাকবে ততদিন আমরা সাংসদের নির্দেশে মাঠে থাকবো।

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি মার্চ মাস থেকেই আমার নির্বাচনী এলাকায় সরকারের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সকল প্রকারের সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছি। দেশে লকডাউন ঘোষনার আগে থেকেই ত্রান সহায়তা প্রদান করে আসছি। আমি নিজের অর্থায়নে একটি ত্রান তহবিল গঠন করেছি। সেখানে আমার কিছু বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাংখীরা সাধ্যমত সহায়তা করছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় দুইটি পৌরসভা ও ২৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। সেখানে প্রায় ৬০-৭০ হাজার পরিবার কর্মহীন হয়ে পরায় আমি প্রত্যেক পরিবারকে আমার তহবিল ও আমার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ব্যানারে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছি।

ইকবাল হোসেন অপু বলেন, আমি সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করে দিয়েছি। তারা আমার নির্বাচনী এলাকার অসহায়, দুস্থ্য ও অনাহারী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছে। পালং-জাজিরার একটি মানুষও যেন অভুক্ত না থাকে সে জন্য আমি অন্তত ৭০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের কর্মসূচি গ্রহন করেছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ঘরেই খাদ্য সহায়তা পৌচেছে। অনেক পরিবারে একাধিকবারও সহায়তা পৌছানো হয়েছে। জুন মাসের আগে আরো ২৫-৩০ হাজার মানুষকে সহায়তা করতে পারবো ইনশা আল্লাহ। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন, বিশ্ব মানবতার জননী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে অচিরেই আমরা এই ভয়াবহ করোনা যুদ্ধে দেশকে নিরাপদ করতে সক্ষম হবে। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সকল নাগরিককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থেকে সামাজিক ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে চলতে অনুরোধ জানিয়েছেন।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।