বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সুরেশ্বর স্টিমার ঘাট! আজ শুধুই স্মৃতি

Auto Draft
সুরেশ্বর স্টিমার ঘাট! আজ শুধুই স্মৃতি

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর শত শত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থানের নাম। বৃটিশ আমল থেকে এ স্থানের নামটি জগৎ বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। তৎকালিন সময়ে স্টিমার ঘাট, জান শরীফ (রাঃ) মাজার, নদীর মাছের আড়ৎসহ বিভিন্ন কারণে বিখ্যাত হলেও পদ্মার আগ্রসী আচরণের কারণে তার কোন স্থায়ীরূপ লাভ করেনি। জানাগেছে, বৃটিশ আমলে এখান থেকেই স্টিমারে চড়ে কলিকাতা যাওয়া যেত। কামেল পীর জান শরীফ সুরেশ্বরীর মাজার ও পঙ্গাস, বোয়াল, ইলিশসহ নদীর মাছের বৃহৎ আড়ৎ ছিল।
সুরেশ্বর ঘাট এলাকার সিরাজুল ইসলাম (৮০) জানান, চল্লিশ দশক থেকে গোয়ালন্দ-সুরেশ্বর- নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রীবাহী দোতলা মেইল স্টিমার যাতায়াত করতো। পথিমধ্যে সুরেশ্বর স্টেশনে আধাঘন্টার জন্য যাত্রি উঠা নামানোর জন্য বিরতি দিত। এই ঘাটে গোয়ালন্দ থেকে স্টিমার এসে ভীরতো বেলা সাড়ে দশটা। ছেরে যেতো ১১টায়। তখনো সুরেশ্বর স্টিমার ঘাটে কোন স্থায়ী স্টেশন গড়ে উঠতে পারেনি, কারণ পদ্মার ভাঙ্গনের ভয়ে সব স্থাপনাই ছিল অস্থায়ী। তখন এখানে যাত্রীদের জন্য ছনের চাল ও ছেচা বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি করা হয় ঘর। এখানে রাত্রিযাপনের জন্য কোন আবাসিক হোটেল ছিলনা, শুধু অনেক গুলো খাবারের হোটেল ছিল। খাবারের হোটেল গুলো ছিল খুব জমজমাট। বাঙালি রসনার সুস্বাদু খাদ্য সাঁজানো থাকতো। বিশেষত ভাতের থালায় যখন দেয়া হতো পদ্মার সুস্বাদু ইলিশ মাছ ভাজা, তার ঘ্রাণ ও স্বাদই ছিল আলাদা। স্থানীয় শাহ আলম মৃধা জানান, স্টিমার কোম্পানির টিকিট ঘর সংলগ্ন স্টেশন মাস্টারের কোয়াটার ছিল তা টিনের চালা ও কাঠের ফ্রেমের বেড়ার ঘরে। তখন দুজন খালাসী সহ মোট তিনজন কর্মচারী ছিল। টিকিট ঘর ও কোয়ার্টার সব টিনের চাল এবং কাঠের ফ্রেমে টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি।
স্টিমার ভেড়ার জন্য সুরেশ্বরে কোন জেটি ছিলো না। ভাঙ্গন কুল পদ্মা নদীর গভীরতা থাকায় তীরে এসে ভিড়তে কোন অসুবিধা ছিলনা স্টিমারের। স্টিমার এসে নোঙ্গর ফেললে খালাসিরা মোটা মোটা কাঠের সিড়ি বা মই নদীর পাড়ে ফেলে দেয়। দুই পাশে থেকে দুখানা লম্বা বাঁশ ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতো খালাসিরা। যাত্রীরা কেউ যাতে পড়ে না যায় এ প্রয়াশ ছিল তাদের। স্টিমারে ওঠার প্রতীক্ষায় যাত্রীরা অধৈর্য হয়ে পরতো। এক সময় কার আগে কে আগে উঠবে তা নিয়ে হুড়োহুড়ি ঠেলাঠেলি করতে দেখা যেতো। এ নিয়ে শুধু হাতাহাতি হতো। ঘাটের ইজারাদার ও স্থানীয় মুরব্বিরা তা মিটমাট করে দিতেন। এ ঘাটে তখনো বড় বড় ডাটা পাওয়া যেতো যা পদ্মার ইলিশের সাথে অকল্পনী স্বাদের মিলন ঘটাতো। সুরেশ্বরে ঘাট আজও আছে তবে স্টিমার আর নেই। স্বাধীনতার পূর্বেই ছোট আকারে লঞ্চ চালু হওয়ায় লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়ে স্টিমার সার্ভিস বন্ধ হযে যায়। একসময় স্টিমার ঘাট ছিল, এটা আমাদের কাছে ইতিহাস হয়ে আছে। তবে মাছের বাজার প্রতি দিন কাকডাকা ভোরে আজও নিয়মিত বসে। আর ভাঙ্গনের দাপটে সুরেশ্বর দরবার ছোট হয়ে এসেছে। তবে এত কিছুর পরেও এ অঞ্চলের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামূল হক শামীম এর প্রচেষ্টায় পদ্মার ডানতীর রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে বিগত ২ বছর এ এলাকায় কোন রকম নদী ভাঙ্গন না হওয়ায় এলাকাবাসী সুরেশ্বর এলাকা নিয়ে আবারও নতুন সম্ভাবনার সোনালী স্বপ্ন দেখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।