শুক্রবার, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মানবিক দৃষ্টান্তে আবারও সাক্ষর রাখলেন পালং মডেল থানার ওসি আক্তার

মানবিক দৃষ্টান্তে আবারও স্বাক্ষর রাখলেন পালং মডেল থানার ওসি আক্তার
ভ্যান চালক।

পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আক্তার হোসেন মানবিক দৃষ্টান্তে আবারও নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। ইচ্ছা থাকলেই গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব তা আবারও প্রমান করলেন তিনি। এতে মানসিক শান্তি নিয়ে অর্থনৈতিক চাপমুক্ত হলেন সদর উপজেলার বিনোদপুর মুন্সিকান্দি গ্রামের এক ভ্যান চালক।
১৯ এপ্রিল দুপুরে শরীয়তপুর পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি প্রাইভেট কারের পিছন দিক থেকে ভ্যান দিয়ে ধাক্কা লাগায় ওই ভ্যান চালক। এতে প্রাইভেট কারের লাইট ও বাম্পার ভেঙ্গে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ভ্যানসহ ভ্যান চালককে পালং মডেল থানায় নিয়ে আসেন। তখন ওসি আক্তার হোসেন এর মনে দাগ কাটে যে, এই লকডাউনের মধ্যে যদি গরীব ভ্যান চালককে প্রাইভেট কারের ক্ষতিপূরণ দিতে হয় তাহলে সে নি:স্ব হয়ে যাবে। তাই তিনি নিজের তহবিল থেকে প্রাইভেট কারের ক্ষতিপুরণ দিয়ে ভ্যান চালককে মুক্ত করে দেন।
ভ্যান চালক জানায়, আমার বাড়ি বিনোদপুর মুন্সি কান্দিার মুন্সি বাড়ি। আমার ভুলেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। পালং মডেল থানা পুলিশ গিয়ে আমার ভ্যান থানায় নিয়ে আসে। তখন ওসি স্যার আমাকে সন্ধ্যার পরে আসতে বলে। আমি আসার পরে স্যার আমাকে বলে প্রাইভেটকার মেরামত করতে যে ক্ষতিপুরণ দিতে হবে তা আমি দিয়ে দিব। তুমি ভ্যান নিয়ে যাও আর আমার জন্য দোয়া করবা। এতে আমি খুব খুশি হয়েছে। এই লগডাউনের মধ্যে যদি আমাকে জরিমানা দিতে হলে ভিটা-বাড়ি বিক্রি করতে হত। বিপদের সময় স্যার আমাকে উপকার করেছে তাই আমিও স্যারের জন্য সারা জীবন দোয়া করব।
পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আক্তার হোসেন বলেন, ব্যাটারী চালিত মাল বোজাই ভ্যান দিয়ে প্রাইভেট কারের পিছনে ধাক্কা দেয় এক ভ্যান চালক। পরবর্তীতে ভ্যানসহ ভ্যান চালককে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এতে প্রাইভেট কারের ২০-২৫ হাজার টাকা পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেখলাম লকডাউনের মধ্যে এই ভ্যান চালকের কাছ থেকে ক্ষতিপুরণ আদায় করলে তার খুব সমস্যা হবে। স্ত্রী-সন্তান নিয়েও বিপাকে পড়বে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই ভ্যান চালককে মুক্ত করে দেই এবং ক্ষতিগ্রস্থ প্রাইভেট কার মেরামত করার দায়িত্ব নেই। এমনি ভাবেতো অনেক সাহায্য করি এটাও তারই একটা অংশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।