শুক্রবার, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অন্ত:সত্ত্বাকে লাথি মেরে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অন্ত:সত্ত্বাকে লাথি মেরে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ

জপসায় অন্ত:সত্ত্বা এক গৃহবধুকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক বখাটের বিরুদ্ধে। এতে অন্ত:সত্ত্বা ওই নারীর গর্ভে ৭ মাসের বাচ্চা মারা যায়। বুধবার রাতে ওই নারী শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব করেছেন। ধর্ষণ চেষ্টা ও গর্ভজাত শিশু হত্যার অভিযোগে নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করে ওই গৃহবধুর স্বামী।
ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল সোমবার ভোরে নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের চর ভোজেশ্বর মোল্যা কান্দি গ্রামের এক অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধু হাটতে বের হয়। ওৎপেতে থাকা প্রতিবেশী ইউনুছ রাড়ি ওই গৃহবধুর পথরোধ করে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ধ্বস্তা-ধ্বস্তি করতে থাকে। ওই সময় গৃহবধু ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচার জন্য চিৎকার করে এবং ধর্ষকের হাতে কামড় দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তখন ধর্ষক ওই গৃহবধুকে এলোপাথারি লাথি মারে। তথন গৃহবধুর পেটে লাথি লেগে গর্ভের সন্তান মারা যায়। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব করেন ওই নারী।
প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, সোমবার ভোরে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ইউনুছ রাড়ি। এ সময় ওই গৃহবধুর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে লম্পট ইউনুছকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অসুস্থ ওই গৃহবধুকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তারা আরও জানায়, কিছু দিন মাসখানেক পূর্বে উভয় পরিবারের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইউনুছ এই ধর্ষণের সেষ্টা করতে পারে।
ভিকটিম জানায়, চিকিৎসকের পরামর্শে ফজরের নামাজ শেষে হাটতে বের হয় সে। পিছন থেকে লম্পট ইউনুছ রাড়ী তাকে জড়িয়ে ধরে আড়ালে নিতে টানা হেচড়া করে। আত্মরক্ষার জন্য ভিকটিম ইউনুছের হাতে কামড় দেয়। পরে ইউনুছ তাকে এলোপাথারী লাথি মারে। ইউনুছের লাথি ভিকটিমের পেটে লেগে সেখানে গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনায় তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
অভিযুক্ত ইউনুছ পরিবার জানান, ইউনুষ মাছের ব্যবসায়ী। সকালে মাছের আড়তে যাওয়ার পথে ওই নারী পূর্ব শত্রুতা উদ্ধারের জন্য ইউনুছকে জড়িয়ে ধরে। তবে মারধরের কথা এড়িয়ে যান অভিযুক্ত ধর্ষণ চেষ্টাকারী ইউনুছ রাড়ি।
সদর হাসপাতারের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ হোসনে আরা রোজি বলেন, ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তির পরে শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে দেখা যায় ওই নারীর গর্ভের সন্তান মারা গেছে। পরে বুধবার রাতে ওই নারী মৃত সন্তান প্রসব করে।
এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ইনন্সপেক্টর (তদন্ত) প্রবীণ চক্রবর্তী বলেন, বৃহস্পতিবার ধর্ষণের চেষ্টা ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত শিশুটিকে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।