রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গ্রাম বাংলায় এখন আর চোখে পড়েনা বায়োস্কোপ

গ্রাম বাংলায় এখন আর চোখে পড়েনা বায়োস্কোপ
গ্রাম বাংলায় এখন আর চোখে পড়েনা বায়োস্কোপ

এমন এক সময় ছিল, বর্তমান শরীয়তপুর তথা সাবেক ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার পূর্বাঅঞ্চলের হাট বাজার ও গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিনোদনের মাধ্যম ছিল বায়োস্কোপ। যা এখন আর আগের মত চোখে পড়ে না।
শরীয়তপুর জেলার ৭০ বছর উর্ধো প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করে জানাযায়, আমাদের জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও গ্রামে বায়োস্কোপ দেখিয়ে অনেক মানুষ তাদের জীবীকা নির্বাহ করতেন।
এমন এক সময় ছিল আমাদের পালং, জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাটের হাট বাজার ও গ্রামে বায়োস্কোপ দেখিয়ে শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষদের আনন্দ দেয়ার মাধ্যমে নিজের সংসার চালাচ্ছেন বায়োস্কোপ ওয়ালারা।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সাজনপুর বাজারের সাবেক ব্যবসায়ী আলাবক্স হাওলাদার বলেন, আমাদের পুটিয়া গ্রামের এ মুহুর্তে নামটি সঠিক মনে পরেনা জাহাঙ্গীর বা সিরাজ হবে সে আমাদের গ্রাম ও বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে ঘুরে, বায়োস্কোপ দেখিয়ে তার সংসার চালাতেন। বিগত ৮০ দশক পর্যন্ত তার দেখা পাওয়া গেলেও তার পরে আর তাকে বায়োস্কোপের বাক্সো মাথায় নিয়ে ঘুরতে দেখিনি।
আমাদের জেলায় বিশেষ করে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর, ডামুড্যা ও পালং এ সিনেমা হল তৈরীর পরে, ধীরে ধীরে মানুষ বায়োস্কোপের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে করে বায়োস্কোপ ওয়ালাদের ভাগ্যাকাশে নেমে আসে অন্ধকারের ঘনঘটা।
বর্তমান আমেরিকা প্রবাসী ডামুড্যা উপজেলার তিলঐ গ্রামের কৃষিবীদ আবদুস সাত্তার বলেন, আমরা ছোট বেলা থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া পর্যন্ত বুড়িহাট বাজারে পাঁচ পয়সা নিয়ে বায়োস্কোপ দেখার জন্য বসে থাকতাম। আমি শেষ মেশ আট আনা টিকিটেও বায়োস্কোপ দেখেছি।
তবে বায়োস্কোপ ওয়ালার নাম আমার মনে না থাকলেও তার প্রদর্শনীর গান গুলো আজ আমার মনে ভাসে “লিলাম বালা ছয় আনা দেইখা দিবেন, দুইআনা” বা “ রাজা সাহেব চইলা গেলো, পরী দেশে আইয়া পরলো” এমনি হরেক রকমের গান শোনাতো।
তিনি জানান, দুই বাই দেড় ফুটের একটি বাস্কোতে তিন দিক ৬/৮টি পাওয়ার গ্লাস বসিয়ে দেখানো হতো বায়োস্কোপ। তার ভিতরে তৎকালিন সময়ের বাজারে পাওয়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ছবি, নায়ক নায়িকাদের ছবি, দুলদুল ঘোড়ার ছবি সহ আট-দশটি ছবি সম্বলিত দেখানো হতো। বাস্কোর ভিতরে দুই পাশে দুইটি হাতল এক পাশে থেকে পেচিয়ে অন্য পাশে নেয়ার পরেই এক শো শেষ হতো।
জাজিরা উপজেলার অধিবাসী চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী হাজি মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের সময়ে বায়োস্কোপ দেখে নাই এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা। এ বায়োস্কোপ দেখিয়ে সে সময়ে এক একজন দেড় থেকে দুইশত টাকা আয় রোজগার করতো। আর তখন প্রতিদিন শ্রমিকের মজুরী ছিল ১৫ খেকে ২০ টাকা। কালের বির্বতনে আমাদের আদি বিনোদনের অনুসর্গ বায়োস্কো হারিয়ে গেছে। সেই সাথে বিলিন হয়ে গেছেন বায়োস্কোপ শিল্পীরাও। সময়ের পরিবর্তনে নতুন নতুন আবিস্কারের সুবাদে একদিন যে সিনেমা হলের দাপটে বায়েস্কোপ হারিয়ে গিয়েছিল আজ আবার অত্যাধুনিক আবিস্কারের ফলে সিনেমা হলের অবস্থাও তথৈবচ। এভাবেই এক একটি সভ্যতার ইতিহাস রচিত হবে নতুন সভ্যতার আর্বিভাবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।