রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শ্যালিকাকে তুলে নিতে গিয়ে স্ত্রীসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে তাজিম

শ্যালিকাকে তুলে নিতে গিয়ে স্ত্রীসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে তাজিম
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামীর নির্যাতনে আহত স্ত্রী মমতাজ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শ্যালিকার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার খবর পেয়ে তাকে তুলে নিতে যায় ভগ্নিপতি তাজিম হোসেন মৃধা ও তার সহযোগিরা। এই সময় তান্ডব চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুরসহ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। বাঁধা দেওয়ায় স্ত্রী মমতাজ, শ্যালিকা ফাতেমা, খাদিজা, শ্যালক আবু বকর ও শ্বাশুরী বিউটি বেগমকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহতরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল থেকে অসুস্থ মমতাজ জানায়, ২০১০ সালের আগস্ট মাসে গোসাইরহাট উপজেলার শিবের চর গ্রামের মৃত ফেলান মৃধার ছেলে তাজিম হোসেন মৃধার সাথে তার বিয়ে হয়। চাহিদা মতে যৌতুক না পেয়ে বিয়ের দিন থেকেই বেঁকে বসে তাজিম। এমনি ভাবে ১১টি বছর কেটে গেছে। ইতোমধ্যে তাদের তিনটি সন্তান জন্ম নেয়। ২২ দিন পূর্বে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে সুলাইমানের জন্ম হয়। কয়েক বছর থেকে আমার ছোট বোন খাদিজার উপর খারাপ নজর দেয় আমার স্বামী। আমাদের বাবা নাই এবং বড় কোন ভাইও নাই। মান সম্মানের ভয়ে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি। আমার বোন এসএসসি পাস করার পরে আমার স্বামীর কাছ থেকে দূরে রাখার জন্য কলেজ হোস্টেলে রাখি। এবার সে অনার্সে পড়ে। ৩ এপ্রিল আমার বোন খাদিজার বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে খরচের জন্য জমি বিক্রি করে ঘরে টাকা রাখি। আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াতের কাজও চলছিল। এই সংবাদ পেয়ে ৩০ মার্চ রাতে তার সহযোগীদের নিয়ে তাজিম আমাদের বাড়িতে এসে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে এবং খাদিজাকে তুলে নিতে চেষ্টা করে। আমরা বাঁধা দিলে তাজিম ও তার লোকজন আমাদের কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। গত রাতে আমাদের খালি ঘরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। আমার স্বামী এছাড়াও একাধিক মামলার আসামী। তার বৈধ কোন আয় নাই। সারাদিন রাজনীতি করে এবং এলাকায় মাস্তানি করে। এলাকার অনেকেই তার ভয়ে কথা বলতে পারে না। আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে বিক্রি করেও অনেক বার টাকা নিয়েছে। তার পরেও সে আমাকে নির্যাতন করে। তার মা ও ভাই-বোনেরাও আমাকে নির্যাতন করে। আমাদের অনেক দিন ধরে কোন খাবারও দেয় না। আমি অসুস্থ তার পরেও আমাকে মারে আর বলে তোকে মেরে তোর বোনকে বিয়ে করব।
আহত ফাতেমা জানায়, আমার ভগ্নিপতি তাজিমের কাছে আমরা নিরাপদ ছিলাম না। তার ভয়ে সকল সময় আতঙ্কে থাকতাম। পরে আমার ছোট বোনের উপর খারাপ দৃষ্টি দেয় সে। আমরা বুঝতে পেরে বোনকে কলেজ হোস্টেলে রাখি। এবার বোনকে বিয়ে দিতে চাইলে তাজিম বাঁধা দিয়ে বলে আগামী ২৫ বছরেও আমার বোনকে বিয়ে দিতে দিবে না। আমার বোনকে যখন সন্ত্রাসীদের নিয়ে তুলে নিতে আসে তখন আমরা বাঁধা দেই তখন আমাদের কুপুয়ে জখম করে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।