বুধবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
বুধবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত জয়নুল হক সিকদার

চিরনিদ্রায় শায়িত শিল্পপতি জয়নুল হক শিকদার
লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত জয়নুল হক সিকদার

লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সিকদার গ্রুপ ও ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান একাত্তরে রণাঙ্গনের বিজয়ী বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন তিনি।
১৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর মধুপুর নিজ গ্রামে অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তাঁকে চির বিদায় জানালেন লাখো মানুষ ও স্বজনরা। একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মরহুম জয়নুল হক সিকদারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে শরীয়তপুর থেকে ঢাকা রায়েরবাজার সিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।
সিকদার গ্রুপ ও ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার মৃত্যুকালে স্ত্রী ও তার বড় মেয়ে পারভীন হক সিকদার আওয়ামী লীগ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ সহ তিন মেয়ে এবং পাঁচ ছেলে সহ অসংখ্য শুভাকাঙ্খী, গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম শিল্প উদ্যোক্তা জয়নুল হক শিকদার ১৯৩০ সালের ১২ আগস্ট আসামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবারের সাথে বাংলাদেশে চলে আসেন। জয়নুল হক সিকদার বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অন্যতম অংশীদার হিসেবে তিনি সমাদৃত। দীর্ঘ সাত দশকের বেশী সময় ধরে তিনি দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পর্যটন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।
সিকদার গ্রুপের ব্যবসা বাণিজ্য দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়ও সিকদার পরিবারের সম্পদ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ব্যাংক, বিমা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, নির্মাণ, হোটেল, পর্যটন, এভিয়েশনসহ বিভিন্ন খাতে গ্রুপটির ব্যবসা রয়েছে। পরিবারটির সবচেয়ে বড় ব্যবসা এখন বিদ্যুৎ খাতের পাওয়ার প্যাক হোল্ডিং। পাওয়ার প্যাক হোল্ডিংয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে সিকদার গ্রুপের ব্যবসা রয়েছে।
জয়নুল হক সিকদার সেই ১৯৪৫ সাল থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাঁর পাশে থেকেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার চার দিন পর অর্থাৎ ১৯ আগস্ট তিনিই প্রথম রায়েরবাজারে কুলখানির আয়োজন করেন। এজন্য সে সময়ের সামরিক বাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে নানান ভাবে হয়রানি করে এবং ভয়-ভীতি দেখায়, এমনকি তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত, এই লম্বা সময় জয়নুল হক সিকদার তাঁর প্রিয় “মুজিব ভাই” এর প্রতি ভালবাসা থেকে খাটে না ঘুমিয়ে ঘরের মেঝেতেই ঘুমাতেন।
এদিকে জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক শোকবার্তায় বলা হয়, সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উপজেলার জেড এইচ সিকদার ইউনিভার্সিটির মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপি বলেন, জয়নুল হক সিকদার এমন একজন মানুষ ছিলেন যার নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, জয়নুল হক শিকদারের বড় মেয়ে সংরক্ষিত আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান, পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান, জয়নুল হক সিকদারের নাতনি মনিকা সিকদার, ডা: মেনডি সিকদার।
এছাড়াও শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মরহুমের জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ১০ জানুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২ দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন জয়নুল হক সিকদার।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।