মঙ্গলবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরে ব্যক্তি মালিকানা জমিতে গৃহহীনদের জন্য সরকারী ঘর নির্মাণের অভিযোগ

শরীয়তপুরে ব্যক্তি মালিকানা জমিতে গৃহহীনদের জন্য সরকারী ঘর নির্মাণের অভিযোগ
ব্যক্তি মালিকানা জমিতে নির্মাণাধীন গৃহহীনদের জন্য সরকারি ঘর। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং ইউনিয়নের পূর্ব কোটাপাড়া মৌজায় প্রধানমন্ত্রী থেকে বরাদ্দকৃত গৃহহীনদের জন্য সরকারী ঘর নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। যে জমিতে সরকারের অর্থায়নে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে সেই জমি ব্যক্তি মালিকানা দাবী করে সেলিম খান নামে এক ব্যক্তি আদালতে মামলা করেন। আদালতের রায় বাদী পক্ষে থাকার পরেও সেই জমিতে ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। উপজলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিরোধের বিষয়টি মীমাংসার আশ্বস্ত করেছেন।
বাদী পক্ষ প্রদত্ত কাগজপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পূর্ব কোটাপাড়া মৌজার আরএস ও এসএ ১৪০ ও ১৪১ নং দাগের ১২ শতাংশ জমির মালিক আ. হামিদ ফকির। তিনি এই সম্পত্তি ইউনুস খান নামে এক ব্যক্তির নিকট বিক্রি করেন। ইউনুছ খান সেই জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে বিআরএস রেকর্ড চুড়ান্ত হলে সেই জমি খাস খতিয়ানে চলে যায়। সংবাদ পেয়ে বাদী পক্ষ চিকন্দী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী ২২০/২০১৭ নং মামলা করে। সেই মামলায় আদালত বাদী পক্ষে রায় প্রদান করেন। অপর দিকে সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসন আদালত প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছেন। আদালতে আপিল মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সেই জমিতে ভূমিহীনদের জন্য সরকারী অর্থায়নে ঘর নির্মাণ কাজ চলছে।
পালং ইউনিয়ন পরিষদ ১ নং ওয়ার্ড সদস্য সামছুল হক ছৈয়াল জানায়, ২৯টি দাগে মোট ৫ একর ১৯ শতাংশ জমির আরএস ও এসএ রেকর্ডে ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তি। বিআরএস রেকর্ডে ১৪০ ও ১৪১ নং দাগের ৪৭ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ১৬ শতাংশ জমি সরকারের নামে খাস খতিয়ানে রেকর্ড হয়। এই রেকর্ড বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা হয়। আদালত বাদী পক্ষে আদেশ প্রদান করেছে। তার পরেও রাতের আধাঁরে এসে গাছপালা কেটে সরকারী ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে।
পালং ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. জুয়েল হোসেন ঢালী বলেন, ওই জমি নিয়ে মামলা ছিল তা জানতাম না। ঘর নির্মাণ কাজ চলা অবস্থায় এক পক্ষ আদালতের রায় নিয়ে উপস্থিত হয়। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করা হয়। আদালত ওই সম্পত্তিতে স্থায়ী বা অস্থায়ী কোন নিষেধাজ্ঞা না দেয়ায় ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার জানে।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনদীপ ঘরাই বলেন, আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলে সেই সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে। তবে বাদী পক্ষে আদালতের ডিক্রী থাকলে তাদের সহ ভূমি অফিসের নায়েব ও সার্ভেয়ারদের নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।