শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে গোসাইরহাট হাসপাতালে নিয়ে ধর্ষণ

চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে গোসাইরহাট হাসপাতালে নিয়ে ধর্ষণ
চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে গোসাইরহাট হাসপাতালে নিয়ে ধর্ষণ

চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধুকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন ওই হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় আমির হোসেন সরদারের ভাতিজা রিজভি সরদার। ধর্ষক রিজভি সরদার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিন মাহামুদপুর গ্রামের মৃত তেলাম সরদারের ছেলে। ২২ নভেম্বর রোববার বেলা ১১টায় গোসাইরহাট উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ২৩ নভেম্বর সোমবার শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে।
মামলা ও ধর্ষিতার অভিযোগের ভিত্তিতে জানাগেছে, ধর্ষিতা একজন গৃহীনি ও বিএম আইডিয়াল কলেজের ছাত্রী। এই বছর তিনি এইচএসসি (অটো) পাস করেছেন। বিগত ২ বছর পূর্বে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার স্বামী প্রবাসে থাকে। ধর্ষক রিজভি তার পাশ্ববর্তী গ্রামে বসবাস করে এবং ধর্ষকের ছোট ভাইয়ের সাথে পড়াশুনা করে ধর্ষিতা মেয়েটি। সেই সুবাদে ধর্ষক রিজভি তার পূর্ব পরিচিত। বিগত অনেক দিন যাবৎ ধর্ষক গাঁয়েপড়ে পড়াশুনার বিষয়ে ধর্ষিতাকে সহায়তা করতে আগাইয়া আসত। কিছুদিন ধরে ধর্ষিতাকে এনজিওতে চাকুরী দেয়ার কথাও বলে ধর্ষক রিজভি। ২১ নভেম্বর চাকুরীর স্বাক্ষাতকার দেয়ার কথা বলে সে ধর্ষিতাকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা সোহাগ একটা কক্ষ খুলে দিলে সেই কক্ষে মেয়েটিকে আটকে রেখে হাত ও মুখ বেধে ধর্ষণ করে রিজভি নামক সেই ধর্ষক।
ধর্ষিতা জানায়, ধর্ষক রিজভি তার পার্শ্ববর্তী গ্রামে বসবাস করে এবং ধর্ষকের ছোটভাই তার সহপাঠি সেই কারণে ধর্ষক রিজভি পূর্ব পরিচিত। রিজভি কিছুদিন যাবৎ তাকে পড়াশুনা সহ সকল বিষয়ে সহায়তা করতে আগাইয়া আসে। কিছুদিন থেকে রিজভি তাকে চাকুরী দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। চাকুরীর সাক্ষাতকার দেয়ার কথা বলে সোমবার তাকে গোসাইরহাট হাসপাতালের একটা কক্ষে নিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সে একপর্যায়ে মুখ খুলতে সক্ষম হয় এবং চিৎকার করে। তার ডাক-চিৎকারে লোকজন এসে ধর্ষককে আটক করে। পরে ধর্ষকের চাচা ওই হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় আমির হোসেন সরদার এসে ধর্ষককে ছাড়িয়ে নিয়ে ভাগিয়ে দেয়। পরবর্তীতে মেয়েটি আদালতে এসে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করে। তার এখন স্বামীর সংসার বা বাবার সংসারে ঠাই হবেনা। তাই ধর্ষিতা ন্যায় বিচার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করছে।
ধর্ষকের চাচা ও গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয় আমির হোসেন সরদার বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছুই জানতাম না। লোকমুখে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। যে ভাতিজা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে আমি তার পরিচয় দিতে চাই না। তাকে পালাতেও আমি কোন সহায়তা করিনাই।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মৃধা নজরুল কবির বলেন, মেয়েটিকে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন কক্ষে আটকে রেখে হাত-মুখ বেঁধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি আমরা ট্রাইব্যুনালকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। ট্রাইব্যুনাল মামলাটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ থানাকে নির্দেশে দিয়েছেন। আমি আশাবাদী আমরা ন্যায় বিচার পাব।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।