বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

অফিস সহায়ক রোকনের দাপটে অতিষ্ঠ শিক্ষকরা

অফিস সহায়ক রোকনের দাপটে অতিষ্ঠ শিক্ষকরা
রোকন উদ্দিন। ফাইল ফটো।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক রোকন উদ্দিনের ঘুষ বাণিজ্য অনিয়মের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোকন উদ্দিনের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ অভিযোগের সঠিক তদন্ত না করায় রোকন উদ্দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগে বলা হয়েছে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নামে ব্যাংকে হিসাব, সার্ভিস বই খোলা ও বাঁধাই করা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে যাওয়ার চিঠি, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের অনুমতি নিতে এবং সার্ভিস বইয়ে বিভিন্ন সার্টিফিকেট অন্তর্ভূক্ত করতে, অর্জিত ছুটি ভোগ, চিকিৎসা ছুটি অনুমোদনসহ পেনশনের টাকা পেতে ঘুষ গুনতে হয় শিক্ষকদের।
হালিমা খাতুন পুতুল নামে এক সহকারী শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ থেকে জানাগেছে, তিনি উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক কোর্সে ভর্তির অনুমতি দিতে ২ হাজার টাকা দাবী করেন রোকন উদ্দিন। সার্ভিস বই বাঁধাইয়ের জন্য দুই বারে ১ হাজার টাকা দিয়েছে রোকন উদ্দিনকে। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুবিনা আক্তার মাতৃত্বকালীণ ছুটি অনুমোদনের জন্য আবেদন করায় বেতনের অর্ধেক টাকা দাবি করেন এই দুর্নীতিবাজ রোকন। ২৮ অক্টোবর সহকারী শিক্ষক রুবিনা আক্তার অসুস্থ থাকায় তার পুলিশ ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত কাগজপত্রে ভুলক্রমে আবেদনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় সেখানে লাল কালি দিয়ে দাগাদাগি করে দরখাস্তটি নষ্ট করে দেয় রোকন। এই বিষয়ে সে কথা বলতে গেলে তার সাথে অশালীন আচর করেন রোকন উদ্দিন। তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য শিক্ষকদের সাথে নানাভাবে হয়রানি মূলক ও খারাপ আচরণ করতে থাকে। শিক্ষকদের বদলি, ডিপিএড ট্রেনিং, জিপিএফ তহবিল খোলাসহ অফিসিয়াল যাবতীয় কাজ কর্মে তাকে টাকা না দিলে কোন কাজ হয় না।
আরও জানা গেছে, মাহমুদপুর মুন্সিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে শরীয়তপুর পিটিআইতে ডিপিএড ট্রেনিংয়ে পাঠানোর নাম করে টাকা হাতিয়ে নেন রোকন। কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করলে আগে থেকেই আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে রোকনের সাথে সমঝোতা করে নিতে হয়। চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে না চাইলে একই স্কুলে বদলি হয়ে আসার জন্য অনিচ্ছুক অন্য কোনো সিনিয়র শিক্ষককে দিয়ে আবেদন করান। অথবা ঘুষ দিতে অনিচ্ছুক শিক্ষকের আবেদনপত্রটি রোকনের অফিস থেকে উধাও হয়ে যেতো। সমাপনী পরীক্ষার অতিরিক্ত সার্টিফিকেটও রোকন অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করেন। পালং তুলাসার মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. এমদাদ হোসেন তার স্কুলের নষ্ট হয়ে যাওয়া সার্টিফিকেট এর পরিবর্তে নতুন খালি সার্টিফিকেট নিতে রোকনকে পাঁচশত টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক। ১ নভেম্বর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অফিসকক্ষে উপস্থিত সকলের সম্মুখে শিক্ষকমণ্ডলী রোকনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেন।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত রোকন উদ্দিনের ০১৯১৭০৩১৫৩৫ নম্বরে ফোন করা হয়। অথচ রোকন উদ্দিন অপর দিক থেকে ফোন তুলেনি।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।