বৃহস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরে ডাকাত আতঙ্ক, নির্ঘুম সারা জেলার মানুষ

শরীয়তপুরে ডাকাত আত মানুষ
শরীয়তপুরে ডাকাত আতঙ্ক, নির্ঘুম সারা জেলার মানুষ

শরীয়তপুরে বিভিন্ন এলাকার মসজিদের মাইক থেকে ডাকাতের গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে চলে এ মাই‌কিং। আর এতেই আতঙ্কিত হয়ে পুরো শরীয়তপুর বাসীই নির্ঘুম রাত কাটায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শরীয়তপুরের কোথাও কোন ডাকাতির ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বুধবার দিবাগত গ‌ভীর রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার কাশিপুর, দাতপুর, আংগা‌রিয়া, স্বর্ণঘোষ, চর স্বর্ণঘোষ, ধানুকা, রাজগঞ্জ, আড়িগাঁও, মনোহর বাজার, চিক‌ন্দি, শৌলপাড়া ও ন‌ড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামা‌নিক, রাজনগর, মোক্তারের চরসহ জা‌জিরা, ভেদরগঞ্জ, গোসাইরহাট ও ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মসজিদে ‘এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে সবাই হুঁ‌শিয়ার, সাবধান’ বলে মাই‌কিং ক‌রা হয়। এতে গ্রামের হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে লা‌ঠি, টর্চলাইট নিয়ে শোরগোল ও চিৎকার করতে করতে ঘরের বাইরে বের হয়ে আসে।

অন্য‌দিকে সামাজিক ‌যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এ ‌নিয়ে বি‌ভিন্ন ধরনের লেখালে‌খি হচ্ছে। বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী। কেউ কেউ বলছেন জনগণকে সচেতন করার জন্য মাইকিং করা হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করে রাতে মসজিদ থেকে মাইকিং করে ডাকাতের আতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনার কারণ জানা যায়নি।

এক‌টি ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, ‘ডাকাত ব্যাপারটাকে গুজব হিসেবে নিলেও বিশ্বাস রাখতে হবে। কারণ কবে যেন রাখাল বালকের গল্পের মতো হয়ে যায়। তিন-চার রাত টানা ডাকাত আসছে ডাকাত আসছে বলে রাত জাগবে। পঞ্চম রাতে গুজব ভেবে সবাই গভীরঘুম দেবে। সকালে শোনা যাবে ডাকাতি হয়ে গেছে।’

ফেসবুকে একজন লিখেছেন, এলাকায় ডাকাত পড়ার নামে মসজিদে মসজিদে মাইকিং। আমার বিশ্বাস, প্রশাসনকে বিব্রত করতে এবং সরকারকে বিপাকে ফেলতে এটা কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ। ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু সবসময় পানি ঘোলা করতে সচেষ্ট থাকে। তারা গুজব রটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সমাজকে অস্থিতিশীল করে রাখে। সকল অপপ্রচার, গুজব, অস্থিতিশীলতা ও উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে ন‌ড়িয়া থানা পু‌লিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) মো. হা‌ফিজুর রহমান বলেন, রাতে ডিঙ্গামা‌নিক, রাজনগর, মোক্তারের চরসহ বি‌ভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ফোন আসে। তাৎক্ষ‌ণিক গা‌ড়ি নিয়ে বের হই। খোঁজ নিয়ে দে‌খি কোথাও ডাকাত আসেনি। এটা গুজব ছাড়া কিছু নয়।

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানা পু‌লিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রত্যেক এলাকায় খবর নিয়েছি, সদরের প্র‌তি‌টি এলাকা ঘুরে‌ছি। কোথাও ডাকাত আসেনি। এটা নিছক গুজব মাত্র। কেউ গুজবে কান দেবেন না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।