শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীর উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের সাথে ঢাকার যোগাযোগ সড়কে দুটি সেতু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই ঝুঁকিকপূর্ণ সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পাড় হচ্ছে যাত্রিবাহি, মালামালবাহিসহ সকল প্রকার যানবাহন। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দুইটি হল শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়া এলাকার কীর্তিনাশা নদীর সেতু ও জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট নদীর উপরের সেতু।
সেতু দুটি এতই সরু যে পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলাচল করতে পারে না। এমন তথ্য জানিয়েছেন শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান। নিরুপায় হয়ে এ সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করা যানবাহন ও পথচারীরা।
শরীয়তপুর আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহনের গাড়িচালক সিরাজ মুন্সি, স্থানীয় জনসাধারণ ও বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়া নামক স্থানে কীর্তিনাশা নদীর ওপরে নির্মিত অতি প্রাচিন ও সরু সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই সেতু দিয়ে পারাপারের সময় তাদের জীবনের ঝুঁকি থাকে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, ১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কীর্তিনাশা নদীর ওপর ১১০ মিটার দৈঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। এরপর শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হলে রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে (সওজ) হস্তান্তর করা হয়। এ সেতু সড়ক ও জনপথ বিভাগ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়।
প্রাচিন পদ্ধতিতে নির্মিত এ সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা-শরীয়তপুরসহ পাশর্^বর্তী জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। বর্তমানে সেতুর অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নড়বড়ে। ভারী যানবাহন সেতুতে উঠলে সেতু দু’দিকে দুলতে থাকে। মনে হয় এই বুঝি ধসে পড়ল। তাছাড়া সেতুদুটি এতই সরুযে পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলতে পারে না। ইতোমধ্যে সেতুর রেলিং ভেঙে পড়ে আহত হয়েছেন অনেকেই।
সেতু পারাপারের সময় একদিক থেকে গাড়ি উঠে গেলে অপর দিকের গাড়ি পেছনে নিতে হয়। এমনি ভাবে গাড়ি উল্টে যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলরত গাড়ি চালকদের আশঙ্কা যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
একই সড়কে জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট নামক স্থানে মরা পদ্মার ওপর ১০৯ মিটার দৈঘ্যের নির্মিত কাজিরহাট সেতু ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। সেই সেতুটিও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও সরু। ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে হাটের দিন অর্থাৎ প্রতি বৃহস্পতিবার ও রোববার সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহনের ভিড়ে পথচারি পারাপার হওয়া খুবই কষ্টকর। সারাদিন ওই সেতুতে যানজট লেগেই থাকে। পারাপারের অপেক্ষায় সেতুর দুই ঢালে শতশত যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে। কারণ ওই সেতুতেও পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলতে পারে না।
ঢাকার সাথে শরীয়তপুরবাসীর একমাত্র যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু দিয়ে চলছে যানবাহন। যেকোনো সময় এ সেতুটিও ভেঙে পড়ে যানমালের বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
জরুরী ভিত্তিতে এ সেতুটি পুন:র্র্নিমাণ করার দাবি জানিয়েছে শরীয়তপুরবাসী। গাগড়িজোড়া এলাকার সামসুদ্দিন সরদার জানায়, কোটাপাড়া সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর রেলিং ভেঙে অনেকেই আহত-নিহত হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণ করা জরুরী। অন্যথায় যানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
বাসচালক মো. মিলন বলেন, কোটাপাড়া ও কাজিরহাট সেতু দুটো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার হই। জরুরী ভিত্তিতে সেতুদুটি নির্মাণ করা না হলে বড় ধরণের ক্ষতি হবে।
শরীয়তপুর আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার বলেন, সেতু দুইটি নির্মাণের বিষয়ে আমরা সড়ক ও জনপথে লিখিত আবেদন করেছি।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।