শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরে তিন উপজেলায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি

পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে যাওয়া বাড়ি-ঘর। ছবি-দৈনিক হুংকার।

উজানের বন্যার পানি পদ্মা নদী দিয়ে নেমে আসায় পদ্মাবেষ্টিত জেলা গুলোতে বন্যার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শরীয়তপুর জেলার পদ্মা বেষ্টিত তিনটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার হাজার হাজার মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানাগেছে, জেলার নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর পাড় তলিয়ে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে তিন উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের সময় পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০-১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরেশ্বর পয়েন্টে শনিবার রাতে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপরে ছিল। একই পয়েন্টে রোববার সকাল থেকে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে বসত বাড়ি-ঘর, ফসলী জমি ও রাস্তাাঘাট। অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ব্যহত হচ্ছে পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ। অনেক স্থানে বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ভাঙ্গন প্রবন কিছু কিছু স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে তীর রক্ষার চেষ্টা চলছে।
নড়িয়ার পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ী জানায়, গত কয়েক দিনে পদ্মার পানি দ্রæত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে পৌর এলাকার ৪টি ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বন্দি পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের হাতে এই খাবার পৌঁছে দেয়া হবে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়ন্তী রূপা রায় জানান, গত তিনদিন ধরে পদ্মা নদীর পানি দ্রæত বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মা তীরবর্তী ও আশপাশের ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার আংশিক প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকা পরিদর্শণ করা হয়েছে। যেসব এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে, সেসব এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষের নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। এসব পরিবারের তালিকা হাতে পেয়েছি। পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. আহসান হাবীব বলেন, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জাজিরা-নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহীত পদ্মা নদীর পাড় তলিয়ে নিন্মাঞ্চলের গ্রাম গুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। নদীতে ¯্রােত বেশী থাকায় পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাজেরও ব্যাঘাত হচ্ছে। জরুরী রক্ষা কার্যক্রম ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং চালু রাখা হয়েছে। এবছর পদ্মা নদীর কোথাও তেমন ভাঙ্গন নেই। কোথাও ভাঙ্গন দেখা দিলে সেখানে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার কয়েকটি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে এখনো বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। বন্যা মোকাবেরায়ও প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশ দেয়া রয়েছে যেখানে সমস্যা দেখা দিবে সেখানেই টিম ওয়ার্ক করে ত্রাণ বিতরণসহ যেকোনো সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।