সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ রমজান ১৪৪৪ হিজরি
সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkar/public_html/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

শরীয়তপুরে পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং শাকিলের দুই ঘাতক গ্রেফতার

প্রেস ব্রিফিং এ বক্তব্য রাখছেন পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান। ছবি: দৈনিক হুংকার।

জাজিরায় শাকিল মাদবর নামে অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া এক কিশোরকে পারিবারিক রেশারেশি, বিদ্বেষ ও অর্থলোভে খুন করে লাশ মাটি চাঁপা দিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করে তাদের দেখানো মতে পদ্মা সেতুর রেল সড়কের পিলাড়ের গোড়া থেকে শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৪ জনকে আসামী করে নিহতের পিতা সালাম মাদবর বাদী হয়ে মামলা করেছে। এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান। এই সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার, তানভীর হায়দার শাওন, জাজিরা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আজহারুল ইসলাম সরকার ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার বলেন, জাজিরা উপজেরার পূর্ব নাওডোবা হাজী কালাই মোড়লের কান্দি গ্রামের সালাম মাদবরের বড় ছেলে শাকিল মাদবর (১৫) স্থানীয় আ্যাম্বিশন কিন্ডার গার্টেন এন্ড হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীতে লেখাপড়া করত। গত ২৫ জুন বিকাল সারে তিনটার দিকে শাকিলকে প্রতিবেশী সাকিব ওরফে বাবু ক্রিকেট খেলার কথা বলে ডেকে নেয়। পরে তাজেল মোড়লের মুদি দোকানের সামনে থেকে বাবু শাকিলকে ভ্যান যোগে ছাত্তার মাদবরের ঘাট এলাকায় নিয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পরেও শকিল বাড়ীতে না ফেরায় খোঁজাখুজি শুরু করে তার পরিবার। শাকিলকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবার বাবুর কাছে আসল ঘটনা জানতে চাইলে প্রথমে বাবু তালবাহানা করে এবং শাকিল ফিরে আসবে বলেও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করে। ঘটনার জটিলতা সৃষ্টি হয় ২৬ জুন সকাল ৯টার সময় যখন শকিলের চাচা শাহাজুল ইসলমের মোবাইল ফোনে মুক্তিপন দাবী করা হয়। মোবাইল ফোনে দাবী করা হয় শাকিলকে অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখা হয়েছে এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে শাকিলকে হত্যা করা হবে। পরে স্থানীয়রা বাবুকে আটক করে পুলিশে দেয়।
এসপি আরও বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাবু স্বীকার করে পূর্ব পরিকল্পিক ভাবে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আক্তার মাদবরের নেতৃত্বে শাকিলকে অপহরণ করে আটক রাখা হয়। সন্দেহ এড়াতে বাবু নিজ বাড়ি চলে যায়। বাবুর তথ্যমতে পুলিশ ইমরান মোড়লকেও আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান স্বীকার করে আক্তার মাদবর, সজিব মাঝি, মহসিন হাওলাদার, স্বপন সরদারসহ আরও কয়েক জন মিলে বাদীর ছেলে শাকিল মাদবরকে হত্যা করিয়া লাশ জাজিরা থানাধীন মোসলেম ঢালী কান্দির বারেক মৃধা বড়ি সংলগ্ন রেল সেতুর ৩৮ ও ৩৯ নং পিলারের মাঝামাঝি পূর্বপাশে বালুর নিচে লাশ গুম করে রেখেছে। ২৭ জুন রাত ২টায় হত্যাকারীদের দেখানো মতে সেই মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ নিহত শাকিলের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সাকিব ওরফে বাবু (২০), আক্তার মাদবর (২৬), সজিব মাঝি (২২), ইমরান মোড়ল (২০), মহসিন হাওলাদার (২৫) ও স্বপন সরদারদের (৪৫) আসামী করে নিহতের পিতা জাজিরা থানায় নারী ও শিশু এবং পেনাল কোড আইনে মামলা দায়ের করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।