রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ রজব ১৪৪৪ হিজরি
রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরে নানা আয়োজনে প্রতিবন্ধি দিবস পালিত

শরীয়তপুরে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধি দিবস উপলক্ষে প্রতিবন্ধিদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করছেন অতিথিবৃন্দ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

“অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পরির্বতনমুখি পদক্ষেপ, প্রবেশগম্য ও সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণে উদ্ভাবনের ভুমিকা” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শরীয়তপুরে ৩১ তম আন্তর্জাতিক ও ২৪ তম জাতীয় প্রতিবন্ধি দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসের কর্মসূচির মধ্যে ছিলো র‌্যালি, আলোচনা সভা, পুরস্কার, হুইল চেয়ার ও অনুদানের চেক বিতরণ। জেলা সমাজ সেবার উপপরিচালক বিশ্বজিৎ বৈদ্য এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাইফুদ্দিন গিয়াস। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবিনা ইয়াসমিন, সিভির সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাইফুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন পুরস্কার প্রাপ্ত প্রতিবন্ধি ব্যক্তিত্ব, সোডেপ এর নির্বাহী পরিচালক শামীম খন্দকার ও মোঃ শাহ আলম মিয়া।
এ সময় ৩০ জনকে আর্থিক সহায়তার চেক, ৩৯ জনকে হুইল চেয়ার ও সফল প্রতিবন্ধি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার পেয়েছেন ব্যক্তি পর্যায়ে শামীম খন্দকার। প্রতিষ্ঠানের জন্য শরীয়তপুর প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সামিনা ইয়াসমিন ও ডিডিও এর নির্বাহী পরিচালক রাজিয়া বেগম।
প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফউদ্দিন গিয়াস বলেন, ৩রা ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধি দিবস। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ৪৭/৩ এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই দিবসটি পালিত হয়। এ দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিবন্ধির বিষয়ে সবাইকে অনুধাবণ করতে হবে এবং তা হবে মর্যাদার সাথে। এদের অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে। কোন ক্ষেত্রেই অবমূল্যায়ন করা যাবে না। প্রতিটি রাষ্ট্রের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বলয়ে প্রতিবন্ধি ব্যক্তির অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবছর ৩রা ডিসেম্বর নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের সকল সদস্য এবং দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এই দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান করে থাকে। তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধিরাও মানুষ তাদের বিরল প্রতিভা রয়েছে। তাদের সুযোগ করে দিলে তারাও আমাদের জন্য কাজ করে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে।
সরকার প্রতিবন্ধিদের উন্নয়নে যুগান্তকারি পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীর তনয়া সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সরকার চারটি নিউরোডেপলাপমেন্টাল ডিসঅর্ডারকে প্রতিবন্ধিকতার হিসাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এগুলো হচ্ছে অটিজম, সেরিব্রাল পালসি, ডাউন সিনড্রম ও মেন্টাল ডিসঅর্ডার। এজন্য সরকার নানা কর্মসূচীও গ্রহণ করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা ও অটিজম সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির চেয়ারপার্সন সাইমা ওয়াজেদ হোসেনের নেতৃত্বে এ ব্যাপারে দেশে ব্যাপক কাজ হচ্ছে এবং অচিরে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।