রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ রজব ১৪৪৪ হিজরি
রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরে ধারণ ক্ষমতা নেই বাস টার্মিনালে, যানজট সড়ক জুড়ে

শরীয়তপুরে বাস টার্মিনালে ধারণ ক্ষমতা না থাকায় সড়জ জুড়ে যানজট। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর পৌরবাস টার্মিনালটি ছোট হওয়ায় তাতে এখন ধারণ ক্ষমতা নেই। এ কারণে সড়কের ওপর থেকেই গাড়িতে যাত্রী ওঠাতে হয়। এর ফলে শহরের সড়কে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এ কারণে চলাচলকারি যাত্রীরা ভোগান্তিতে পরছেন।
শরীয়তপুর বাস মালিক সমিতি সূত্র জানায়, নব্বইয়ের দশকে শরীয়তপুর জেলার ভেতরে বাস চলাচল শুরু হয়। তখন সড়কের ওপরেই বাস রেখে যাত্রী ওঠা-নামা করা হত। ওই সময়ের বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ তালুকদার ও তার ভাই ফরিদ আহম্মেদ তালুকদার বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য বাঘিয়া ও চরপালং এলাকায় শরীয়তপুর পৌরসভাকে এক একর জমি দান করেন। ১৯৯৮ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ সেই জমিতে বাস টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এরপর ২০১০ সালে সেখানে একটি ভবন নির্মাণ করে বাস টার্মিনালের যাত্রা শুরু করে পৌরসভা।
২৫ জুনের আগ পর্যন্ত ওই টার্মিনাল থেকে জেলার সকল উপজেলা, মাদারীপুর, খুলনা, বেনাপোল ও সাতক্ষিরায় বাস চলাচল করত। ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ঢাকা-শরীয়তপুরে বাস চলাচল শুরু হয়। জেলার অন্তত ২৫ হাজার যাত্রী প্রতিদিন ওই টার্মিনাল দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। বর্তমানে সাড়ে তিনশ বাস বিভিন্ন গন্তব্যে চলছে।
এক একর জমিতে নির্মাণ করা বাস টার্মিনালে ৫০টি বাস রাখার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। অন্য বাস গুলো শহরের আসনার ব্রাকের সামন থেকে প্রেমতলা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে রাখা হয়।
ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস বাসের চালক সাহাদাৎ হোসেন বলেন, টার্মিনালে কোন বাস রাখা যাচ্ছে না। সেখানে পুরাতন কিছু বাস রেখে আটকে রাখা হয়েছে। ঢাকা যাতায়াতের সকল বাস রাস্তার মধ্যে রেখে যাত্রী তোলা হয়। এ কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি হয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
সড়কের অটো চালক বেলায়েত হোসেন বলেন, সড়কের ওপরে বাস রাখা হয়। এ কারণে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট হয়। আমাদের ছোট একটি জেলা শহর। এমন যানজটের সাথে আমরা অবস্ত নই। অনেক দুর্ভোগ নিয়ে চলছি।
শরীয়তপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন,আমাদের পরিবারের দেয়া জমিতে ছোট একটি বাস টার্মিনাল নির্মান করা হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এখন পরিবহন ব্যবসা অনেক সম্প্রসারন হয়েছে। ওই টার্মিনালে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। যাত্রীদের সাথে আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে। বড় একটি বাস টার্মিনাল নির্মান করার জন্য অনেকবার পৌরসভাকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোন সারা পাচ্ছি না।
শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, শহরের বাইরে পৌর এলাকার মধ্যে বাস টার্মিনালটি সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জমি ক্রয় করার ফান্ড না থাকায় উদ্যোগটি তরান্বিত হচ্ছে না। জমি ব্যবস্থা হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের প্রকল্পে বড় টার্মিনাল নির্মান করা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।