শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

গোসাইরহাটে মাছের ঘের থেকে উদ্ধার করা কুমিরটি হস্তান্তর

গোসাইরহাটে মাছের খামার থেকে উদ্ধারকৃত কুমির। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের আলাওলপুর ইউনিয়নের পাজালকান্দি গ্রারেম মাছের ঘের থেকে উদ্ধার করা লোনা পানির কুমিরটি হস্তান্তর করা হয়েছে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ ইউনিটের কাছে।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বেলা ১২ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাফী বিন কবির বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অপরাধ ইউনিটের পরিচালক মোঃ সানাউল্লাহ পাটোয়ারির কাছে কুমিরটি হস্তান্তর করে।
এর আগে ১৪ নভেম্বর রাতে কুমিরটি উপজেলার আলাওলপুর ইউনিয়নের পাজাল কান্দি এলাকার খলিল কাজির মাছের ঘের থেকে উদ্ধার করা হয়। কুমিরটি ঘেরের শ্রমিক রাশেদুল ফাঁদ পেতে উদ্ধার করে। কুমিরটিকে দেখতে অনেক দুর দুরান্ত থেতে উৎসুক জনতা আসছেন, সাথে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।
বন্য প্রাণী অপরাধ ইউনিটের পরিচালক মোঃ সানাউল্লাহ পাটোয়ারি বলেন, এই কুমিরটি লোনা পানির কুমির। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মিঠা পানির স্তর কমে যাওয়ায় জোয়ারের লবনাক্ত পানির কারণে জোয়ারের পানিতে ২০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে এখানে চলে এসেছে। এটি এখনও পরিপক্ক নয়। আমরা এটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে খুলনার বয়রার রেসকিউ সেন্টার আছে সেখানে পাঠানো হবে। সেখানে কয়েকদিন রাখা হবে কুমিরটি কোন ধরনের সমস্যা রয়েছে কিনা সেটা জানার জন্য। পরে সেটাকে সুন্দরবনের করমজলে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আমাদের কুমিরের ব্রিডিং সেন্টার রয়েছে। সেখানে আমরা তাকে অবমুক্ত করবো।
খলিল কাজীর ঘেরের শ্রমিক রাশেদুল জানান, ঘেরে প্রচুর মাছ ছিল, প্রথমে মনে করেছিলাম গুই সাপে আমাদের মাছগুলো খেয়ে ফেলছে, সুন্দরবন এলাকার রাশেদুল আরও জানান কুমিরের পায়ের ছাপ দেখে চিনে ফাঁদ পেতে গর্তের ভেতর থেকে কুমিরটি উদ্ধার করেছি।
পাজালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রেনু বেগম বলেন, আমাদের এলাকার ৫-৬টি ছাগল ওই কুমিরটি বিল থেকে ধরে নিয়ে খেয়ে ফেলেছে। বিষয়টি আমরা এখন বুুঝলাম। কুমরিটি না ধরা পরলে বুঝতাম ছাগলগুলোর অন্য কিছু হয়েছে।
আলাওলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান উসমান গনি ব্যাপারী বলেন, সোমবার সন্ধায় পাঁজালকান্দি এলাকার মো. খলিল কাজির মাছের ঘেরের পাড়ে কিশে যেন গর্ত করছিল, তখন সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরবর্তীতে ফাঁদ পেতে কুমিরটি ধরা হয়। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পর তারা উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে জানিয়ে কুমির উদ্ধারের ব্যবস্থা করেছে।
গোসাইরহাটে উপজেলা নির্বাহী কাফী বিন কবির বলেন, কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফিট। রাতে আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসি। কুমিরটিকে আমরা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে দিয়েছি। তবে এখানে আর কোন কুমির নেই বলে তারা আমাকে জানিয়েছে। এলাকাবাসীকে আতংিকত না হয়ে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।