শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

গোসাইরহাটে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে সাবিনার লাশ উত্তোলণ

সাবিনা ইয়াসমিন। ফাইল ফটো।

শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার কাশিখন্ড গ্রামের সাবিনা ইয়াসমিন (১৯) নামে এক গৃহবধু গত ২৬ আগস্ট-২০২২ ইং তারিখে মারা যায়। গোসাইরহাট থানা পুলিশ ২৭ আগস্ট একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। পরে ৯ সেপ্টেম্বর নিহতের পিতা কাঞ্চন গাইন শরীয়তপুরের নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ১৮ অক্টোবর শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রুমানা আক্তার কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের আদেশ দেন। নিহত সাবিনার লাশ ২ মাস ১৫ দিন পর ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে গোসাইরহাট উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন দাশ গুপ্ত ও গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম সিকদারের উপস্থিতিতে গোসাইরহাট ইউনিয়নের কাশিখন্ড গ্রামের সাবিনার পারিবারিক কবরস্থান থেকে পুলিশ লাশ তুলে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ মার্চ গোসাইরহাট উপজেলার গোসাইরহাট ইউনিয়নের কাশিখন্ড গ্রামের শাহাদাত হোসেন রাজিবের (২৮) সঙ্গে একই গ্রামের কাঞ্চন গাইনের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। সাবিনা তিনমাসের অন্তঃস্বত্তা ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক চেয়ে প্রায়ই সাবিনাকে মারধর করা হত। একই কারণে ২৬ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে রাজিব তাঁর মা রোকেয়া বেগম (৬০), বোন কাকলি বেগম (১৯), ভাই নাজমুল হোসেন রাড়ী (৩৩) ও তার প্রতিবেশী আত্মীয় পান্টু আহমদ মাঝিকে (৪৫) নিয়ে স্ত্রী সাবিনাকে মারধর করে। তারা সাবিনাকে রড দিয়ে পিটানোসহ শরীরের বিভিন্ন যায়গায় এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি মারে এবং শ্বাসরোধ করে। সাবিনাকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সাবিনার বাবা কাঞ্চন গাইন তাঁর মেয়েকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে ৯ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশ দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বাদীর জবানবন্দি নিয়ে মামলাটি গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দেন। এ মামলায় সাবিনার স্বামী রাজিব, শাশুড়ি রোকেয়া, ননদ কাকলি, ভাসুর নাজমুল ও প্রতিবেশী পান্টুকে আসামি করা হয়।
রাজিবের প্রতিবেশী আলহাজ মৃধার ছেলে শিশু হানিফ (১০) জানায়, আমি খেলতে যাচ্ছিলাম, তখন রাজিব ভাইর বাড়িতে চিৎকারের শব্দ পাই। সেখানে গেলে দেখি রাজিব ভাই ও তার পরিবারের লোকজন সাবিনা আপাকে গলায় ধরে মারধর করছে।
নিহত সাবিনা ইয়াসমিনের বাবা কাঞ্চন গাইন ও মা মোকসেদা বেগম বিলাপ করে বলেন, রাজিব ও তাঁর পরিবারের লোকজন আমাদের মেয়ে সাবিনাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি। তাই পাঁচজনকে আসামী করে আদালতে মামলা করি। মামলার পর ময়না তদন্তের জন্য মেয়ের লাশ উত্তোলন করেছে। আমরা ন্যায় বিচার চাই। হত্যাকারীদের বিচার চাই।
গোসাইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সাবিনাকে যদি হত্যা করা হয়ে থাকে, তাহলে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে করে এলকায় এমন ঘটনা আর না ঘটে।
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম সিকদার জানান, আদালতের নির্দেশে গোসাইরহাট উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন দাশ গুপ্তর উপস্থিতিতে কবরস্থান থেকে সাবিনার লাশ তোলা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুজন দাশ গুপ্ত বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেন। ১৪ নভেম্বর শরীয়তপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম কবর থেকে মরদেহ তোলার নির্দেশ দেন। তাই মরদেহ তুলে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।