শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ সফর ১৪৪৪ হিজরি
শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

হত্যা না আত্মহত্যা, কোর্টে মামলা

হত্যা না আত্মহত্যা, কোর্টে মামলা
নিহত সাবিনা। ছবি-সংগৃহিত।

গোসাইরহাটের কাশিখন্ড গ্রামে সাবিনা নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নববধু আত্মহত্যা করেছে বলে থানায় মামলা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার বিষয়টি আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নেয়নি। পরিবারের দাবী তাদের মেয়েকে যৌতুকের দাবীতে স্বামী ও তার পরিবার নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। এই অভিযোগে নিহতের পিতা বাদী হয়ে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হত্যার অভিযোগে মামলা করেছে। মামলায় নিহতের স্বামী শাহাদাত হোসেন রাজিব সরদার, শাশুরী রোকেয়া বেগম, ননদ কাকলী বেগমসহ ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, নিহত সাবিনা কাশিখন্ড গ্রামের কাঞ্চন গাইনের মেয়ে। প্রায় ছয় মাস পূর্বে একই গ্রামের রাজিব সরদারের সাথে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মুক্তি মেলে। কিন্তু যৌতুক লোভী স্বামী ও তার পরিবার সাবিনাকে বাঁচতে দেয়নি। তারা তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন করে সাবিনাকে গত ২৬ আগস্ট হত্যা করে। বিষয়টি প্রথমে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিলেও প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়। নিহতের পিতা কাঞ্চন গাইন তার মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে মর্মে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
নিহতের পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই সাবিনার স্বামী ও শাশুরী যৌতুক ও আসবাবপত্রের জন্য চাপ প্রয়োগ করত। যৌতুক না নিয়ে স্বামীর বাড়ি ফিরলে মেরে ফেলবেও হুমকি দিত। সাবিনার কাছ থেকে এই কথা শুনে তার পিতা স্থানীয় মুরব্বিদের সহযোগিতায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তার পর থেকেই নিহতের স্বামী ও তার শাশুরী-ননদ সাবিনাকে নির্যাতন শুরু করে। গত ২৬ আগস্ট স্বামী রাজিব তার স্ত্রীকে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে পরিবারের সকলে মিলে সাবিনাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিশু হানিফ জানায়, সেই দিন স্কুল ছুটির পরে একটি দোকানে বসেছিল শিশু হানিফ। পাশের বাড়িতে কান্নার শব্দ পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখে রাজিব তার স্ত্রী সাবিনাকে মারধর করতেছে। সেখান থেকে রাজিব শিশুটিকে তাড়িয়ে দেয়। পরে আড়াল থেকে শিশুটি দেখে রাজিব, তার মা ও বোন মিলে সাবিনার চুল ধরে মুচরিয়ে ঘাড় ভেঙ্গে ফেলছে। সাবিনা মাটিতে পড়ে গেলো ঘাতকরা শলা পরামর্শ করে আত্মহত্যার কাহিনী রটায়।
যৌতুকের বিষয়ে শালিশী করা ইউসুব ঢালী জানায়, প্রায় ১৫ দিন পূর্বে সাবিনার বাবা এসে জানায় তার মেয়ের জামাতা ও শ্বশুর পরিবার যৌতুকের টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রের জন্য মেয়েকে নির্যাতন করে। আমি দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে দেই। পনের দিন পরে শুনি যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে সাবিনাকে মেরে ফেলেছে। আমি চাই দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হউক।
এবিষয় গোসাইরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিপন সরদার বলেন, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এই ঘটনার বিচার না হলে। যৌতুকের দাবীতে অনেক গৃহবধুকে জীবন দিতে হবে।
গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেন বলেন, গত ২৬ আগস্ট শুক্রবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাবিনা নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠাই। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকায় একটি ইউডি মামলা করা হয়। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে হত্যা না আত্মহত্যা তা জানা যাবে। কোর্টে মামলা হলে তাও তদন্ত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।