শনিবার, ২ জুলাই ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২ জিলহজ ১৪৪৩ হিজরি
শনিবার, ২ জুলাই ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী জনসভায় যোগদিবে শরীয়তপুরের লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ

Auto Draft
পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী জনসভায় যোগদিতে কর্মসভায় বক্তব্য রাখছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির মোল্যা। ছবি-দৈনিক হুংকার।

আগামী ২৫ জুন রেল ও সড়ক যোগাযোগসহ দ্বি-স্তর বিশিষ্ট বহুল প্রতিক্ষিত পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের স্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক দিন উদযাপনের জন্য শরীয়তপুর জেলার লাখ লাখ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
জাজিরার বাসিন্দা মোবারক হোসেন শাহীন বলেন, “শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার নারী, পুরুষ, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে যাবেন।”
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে সব সময় কাজ করে যাওয়া সাহসী ও দূরদর্শী নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জুন দেশের দীর্ঘতম সেতুটি শুভ উদ্বোধন করবেন। শাহীন আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন।
নড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান বলেন, সেতুটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলার প্রায় ছয় কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, কারণ এটি এসব জেলাকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করবে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিজস্ব অর্থায়নে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বি-স্তর বিশিষ্ট পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। এই সেতুর উপরের স্তরে যানবাহন চলাচল ও নিচের স্তরে ট্রেন চলাচলের জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। স্বপ্নের এই সেতুটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দেবে, পাশাপাশি এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশকে সংযুক্ত করবে এবং যোগাযোগ, বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভূত অবদান রাখবে। তাই আমরা আমাদের নেতা পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপি’র নির্দেশে আমরা প্রধানমন্ত্রীর ২৫ জুনের পদ্মা সেতু উদ্বোধন পরবর্তী জনসভায় যোগদানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমরা সড়ক ও নৌপথে নড়িয়া সখিপুর মিলে লক্ষাধিক লোক যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে ইনশাআল্লাহ।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাজি আবদুল মান্নান হাওলাদার বলেন, লাখ লাখ মানুষ আগামী ২৫ জুনের জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কারণ এটি স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে যান চলাচলের জন্য উদ্বোধনের বহুল প্রত্যাশিত একটি দিন। জনসভায় যোগদানের জন্য আমরা আমাদের নেতা নাহিম রাজ্জাক এমপির উপস্থিতিতে প্রস্তুতি সভা করেছি। আমাদের সাথে দলমত নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর জনসভার ভাষন শুনতে যাবে।
শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, আগামী ২৫ জুন পদ্মসেতু উদ্বোধন পরবর্তী শিবচরের কাঠালবাড়িতে অনুষ্ঠিতব্য জনসভা সফল করতে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনসমূহ দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের জেলার ৭টি সাংগঠনিক উপজেলা ও প্রথম শ্রেণীর শরীয়তপুর পৌরসভায় একের পর এক দলীয় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ১২ জুন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি’র সাথে জনসভা স্থলে আমাদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইফ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, এস.এম কামাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন অপু এমপি, আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনিসুর রহমান, নাহিম রাজ্জাক এমপি, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুনির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও আমাদের শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান এর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান এর নেতৃত্বে পুলিশ বিভাগ ঐতিহাসিক এ জনসভাকে নিয়ে কাজ করছে।
উল্লেখ্য ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের দীর্ঘ প্রতীক্ষা প্রায় শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) অধীনে ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকারের অর্থে এই সেতু প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছিল। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ২০০৩-২০০৫ সালের মধ্যে এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছিল।
এইসিওএম-এর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শদাতারা পদ্মা বহুমুখী সেতুর বিশদ নকশা প্রস্তুত করেছেন। দলটিতে এইসিওএম, এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল, নর্থওয়েস্ট হাইড্রোলিক কনসালট্যান্টস ও এসিই কনসালট্যান্টস এবং এএএস-জ্যাকোবসেন ও এইচআর ওয়ালিংফোর্ড-এর অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে গঠিত হয়েছে।
২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন ও বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে পদ্মা সেতু পরিদর্শন করেন। তাঁরা সেদিন শুক্রবার সকালে ৭ থেকে ১৮ নম্বর পিলার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার হেঁটে যান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।