শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি
শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরে জেলহত্যা দিবস পালিত

Auto Draft
শরীয়তপুরে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

৩ নভেম্বর বুধবার শরীয়তপুর জেলা, সদর উপজেলা, পৌরসভা আওয়ামীলীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে ঐতিহাসিক জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা আওয়মীলীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান উজ্জল, সদস্য আব্দুল হামিদ সাকিদার, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন খান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুহুন মাদবর, সদর উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সামিনা ইয়াছসিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ফাহাদ হোসেন তপু প্রমূখ।
আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে বন্দি করে রাখা হয় পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেই বছরের ৩ নভেম্বর ইতিহাসের আরেকটি নির্মম ও নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে। কারাগারের সেলেই গুলি করে হত্যা করা হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে। খুনিচক্র জেল হত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়।
জেলহত্যার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এই বিচারের প্রক্রিয়া ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মতিউর রহমান মামলার রায় দেন। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদন্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধা। যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন-খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এমএইচএমবি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী, আবদুল মাজেদ, আহমদ শরিফুল হোসেন, কিসমত হোসেন, নাজমুল হোসেন আনসার, সৈয়দ ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন। জেলহত্যা মামলার ১০ জন আসামি এখনও পলাতক। জাতীয় চার নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ও চেতনাকে নির্মূল করা। ২০১০ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতিবিজড়িত কারা জাদুঘর উদ্বোধন করেন। এই দিবস পালন উপলক্ষে জেলা আওয়ামীলীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।