বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এসডিএসের ইনসাফ প্রকল্পের উপকারভোগী জেলেদের সাংবাদিক সম্মেলন

এসডিএসের ইনসাফ প্রকল্পের উপকারভোগী জেলেদের সাংবাদিক সম্মেলন
এসডিএসের ইনসাফ প্রকল্পের উপকারভোগী জেলেদের সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম। ছবি-দৈনিক হুংকার।

দাতা সংস্থা (ইউকে এইড) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এসডিএস (শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি), শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজরলার তিনটি ইউনিয়নের (কোদালপুর, আলাওলপুর ও কুচাইপট্টি) পদ্মা ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বসবাসরত জেলে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে নারী সদস্যদের আর্থ সামাজিক অধিকার সুরক্ষা করার লক্ষ্যে ২০১৯ সাল থেকে (ইনসাফ) নামক একটি প্রকলপ বাস্তবায়ন করে আসছে।
এ প্রকল্পের উদ্যোগে ২৯ সেপ্টেম্বর বুধবার গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের পুরাতন লঞ্চঘাট, ছৈয়াল পাড়া গ্রাম মৎস্য জীবী সমিতির কার্যালয়ে বেসরকারী সংস্থা এসডিএস কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ইনসাফ প্রকল্পের উপকারভোগী জেলেদের অধিকার বিষয়ক এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসডিএস এর নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক, মানব সম্পদ অমলা দাস, ফোকাল পার্সন-এসডিএস এবং তিনটি ইউনিয়নের ১৯ জন মৎস্য জীবি সংগঠনের নেতুৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসডিএসের উপদেষ্টা মজিবুর রহমান। সভার শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এসডিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম। শুভেচ্ছা বক্তব্যে নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত সকলকে এসডিএস-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং তাদের মুল্যবান সময় দেয়ার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রকল্প বিষয়ক বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জনাব আবু আসলাম । তিনি প্রকল্পের উদ্দেশ্য, প্রত্যাশিত ফলাফল, প্রকল্পের কার্যক্রম, কর্ম এলাকা, প্রকল্পে অংশগ্রহনকারী ও অর্জন বিশদভাবে তুলে ধরেন। জেলেদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আবদুর রশিদ ছৈয়াল, শাহাজাদী বেগম, সাংবাকিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবুল হোসেন সরদার, নুরুল আমীন রবিন, আল আমিন শাওন।
মৎসজীবি সমিতির নেতৃবৃন্দগণ সাংবাদিকদের সামনে তাদের নিম্ন লিখিত অধিকারের বিষয়গুলি তুলে ধরবেন। প্রকৃত জেলেদের মৎস্য কার্ড নিশ্চিত করতে হবে, প্রতি বছর মৎস্য কার্ড হাল নাগাদ করার নিয়ম থাকলেও তা নিয়মিত করা হয় না, প্রতি বছর মৎস্য কার্ড হাল নাগাদ করতে হবে। কোন জেলের মৃত্যু হলে তার জেলে কার্ড বাতিল না করে ঐ কার্ড তার পরিবারের অন্য সদস্যের নামে ইস্যু করতে হবে। হাল নাগাদের সময় প্রকৃত জেলে ছাড়া অন্যদের কার্ড বাতিল করে প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে জেলের জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা পরিবার চালনোর জন্য যথেষ্ট নয়, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও সকল জেলের জন্য বিশেষ ভিজিডির ব্যবস্থা করতে হবে। বিকল্প কাজের ব্যবস্থার মাধ্যমে আয়ের উৎস তৈরী করতে হবে। দাদণ প্রথা বন্ধ করতে হবে এবং সহজ শর্তে সরকারী-বেসরকারী ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে অন্যান্য মাছ ধরার সুযোগ দিতে হবে। কারেন্ট জালের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে। ভূমিহীন জেলেদের সরকারী খাস জমিতে অধিকার দিতে হবে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অসহায় জেলেদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারী জলমহল প্রকৃত জেলেদের মাঝে বরাদ্দ দিতে হবে। অযথা পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তারা আরো বলেন, সাংবাদিকরা যেন তাদের লেখনির মাধ্যমে জেলেদের অধিকারের বিষয়গুলি যেন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরেন। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন “এসডিএস-এর উল্লেখিত প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলভিত্তিক দুর্যোগ ঝুকি হ্রাস, নিরাপদ শিক্ষা কার্যক্রম, নারীর প্রতি সহিংসতা হ্রাস, শিশু সুরক্ষা, কিশোর- কিশোরী ও যুবক যুবতীদের জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপশি আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো ও সুরক্ষা কার্যক্রমসহ নানা সুপারিশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।