শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ সফর ১৪৪৪ হিজরি
শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলার মৃত্যু বার্ষিকী আজ

ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলার মৃত্যু বার্ষিকী আজ

২১শে মরনোত্তর পদক প্রাপ্ত,নীতি আদর্শের প্রান পুরুষ ভাষা সৈনিক ডাঃগোলাম মাওলার ৫৩ তম মৃত্যু বার্ষিকীআজ।
মহান এই মানুষটি ১৯৬৭ সালের ২৯ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরন করেন। জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে তাকে মরনোত্তর ২১ পদকে ভুষিত করেন। তার নামে জেলার সরকারি গনগ্রহন্থাগারের নাম করা হয় ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা গনগ্রন্থাগার। বিআইডটিসির আরিচা- দৌলতদিয়া রুটের একটি ফেরী, নড়িয়ার কীর্তিনাশা নদীর ব্রীজের নাম করণ করা হয়েছে তার নামে। মহান ভাষা আন্দোলনের প্রণ পুরুষ ডাঃ গোলাম মাওলাকে শরীয়তপুর বাসী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
এমন ব্যক্তিত্বের জীবন সম্পর্কে দৈনিক হুংকার এর পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছুটা তুলে ধরলাম ।৫৩বছর আগে তার জীবনাবসান হয়। ক্ষনজন্মা প্রবাদ পুরুষ ডাঃ গোলাম মাওলা ১৯২০ সালে ২০ অক্টোবর শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের পোড়াগাছা গ্রামে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। গ্রামের লোকেরা তাকে কালু বলে ডাকতো। তার বাবা আলহাজ্ব আবদুল গফুর ঢালী এবং মা ছুটু বিবি। বাবা তৎকালিন ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। গ্রামের লোক তাকে বড়কর্তা বলে ডাকত। বড়কর্তা ছিলেন গরীবের অকৃতম বন্ধু। ডাঃ গোলাম মাওলা নিজ গ্রামের পাশের জাজিরা উপজেলার পাচুখার কান্দির প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেনী পাস করে নড়িয়া বিহারী লাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হন এবং এ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৪১ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএসসি এবং ১৯৪৩ সালে বিএসসি শেষ করেন। ঢাকা ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভুত্বত্ত বিদ্যায় এমএসসি শেষে ১৯৪৬ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে ২য় বর্ষ এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি এবং ১৯৫৪ সালে এমবিবিএস পাস করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি কলকাতায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন এবং সেখানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে রাজনীতিতে অবদান রাখেন। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যশৃঙ্খলিত মানুষের আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার বীভৎস চেহারা, দেশ বিভাগের পর স্বদেশত্যাগী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, শাসক শ্রেনীর নিপীরন-অত্যাচার তাকে একজন মানবাতাবাদী, আপোষহীন নির্লোভ রাজনীতিবিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভে তাড়িত করে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন কালে ঢাকা মেডিকেল ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা হিসাবে ৫২-র সংগ্রাম পরিষদের ২০ ফেব্রুয়ারীর সভায় এবং ২১ ফেব্রুয়ারীতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার পক্ষে জোড়ালো সমর্থন দান করেন। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী রাতে যে কয়জন ভাষা সৈনিক প্রথম শহীদ মিনারের ভিত্তি স্থাপন করেন ডাঃ গোলাম মাওলা তাদের মধ্যে অন্যতম।
তিনি ছাত্রজীবন শেষে সরাসরি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১৯৫৬ সালে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত এবং ১৯৬২ সালে পাকিস্থান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯৫২ সালে আন্দোলনের চুড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত তার সাংগঠনিক কার্মতৎপরতা, সততা, সাংগঠনিক ক্ষমতা, সিদ্ধান্তে অটল থাকার অঙ্গীকার ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করেন।
এ প্রসঙ্গে ভাষা সৈনিক গাজীউল হক বলেছেন ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারীতে সর্বদলীয় রাষ্টভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভায় ডাঃ গোলাম মাওলার ভূমিকা এদেশের ইতিহাসে চিরদিন স্মরনীয় হয়ে থাকবে। মহুম ডাঃ গোলাম মাওলাকে তার কর্মস্থল মাদারীপুর পৌর শহরের পারিবারিক কবরস্থানে কবরস্থ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।