মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

৩ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে ৬ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত জুয়েনা

৩ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে ৬ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত জুয়েনা
সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের মৌলভী কান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের মৌলভী কান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জুয়েনা আক্তার (দিপ্তী) ৬ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। এতে এলাকাবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেও তাকে কর্মস্থলে ফেরাতে পারছেন না। কৈফিয়ত তলবও করা হয়েছে একাধিকবার। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে জুয়েনা তার ইউরোপ প্রবাসী স্বামীর কাছে চলে গেছেন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ ৩ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন সিএইচসিপি জুয়েনা। পরবর্তীতে ১৯ মার্চ অসুস্থতা জনিত একটি ডাক্তারী চিকিৎসাপত্রসহ লোক মারফত ছুটি বর্ধিত করার একটি আবেদন পাঠায় সে। তারপর ১ জুন তারিখে অসুস্থতার আরো একটি ডাক্তারী সনদ পাঠায় জুয়েনা। অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চেয়ে গত ৫ এপ্রিল ও ১২ জুন কৈফিয়ত তলব করেছেন কর্তৃপক্ষ। এই পর্যন্ত কোন জবাবও দেয়নি অনুপস্থিত থাকা সিএইচসিপি জুয়েনা। পরবর্তীতে সিভিল সার্জন অফিসকে বিষয়টি অবগত করা হলে পুনরায় সিভিল সার্জন কৈফিয়ত তলব করে রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে জুয়েনার ঠিকানায় পাঠানো হয়। সেই ঠিকানায় জুয়েনা নামে কোন প্রানীর সন্ধান পায়নি ডাক বিভাগ। সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট আবারও জুয়েনার ঠিকানায় ডাকযোগে কৈফিয়ত তলব করে তারও কোন জবাব পায়নি সিভিল সার্জন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিসংখ্যান শাখা থেকে জানা গেছে, সদর উপজেলায় মোট ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য ১৯ জন সিএইচসিপি রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সিএইচসিপি ১ জন কম তারপরেও আবার জুয়েনার অনুপস্থিতির বিষয়টি সামাল দিতে হিমসীম খাচ্ছে তারা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিনোদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জনু মাদবরের বাড়ির আঙ্গীনায় এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি অবস্থিত। তখন জনু মাদবরের ভাতিজা লিটন মাদবর জানায়, তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া প্রবাসে ছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে তিনি দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার কয়েদিন পর থেকে তিনি দিপ্তী ওরফে জুয়েনাকে আর কমিউনিটি ক্লিনিকে উপস্থিত হতে দেখেনি। প্রতিদিনই লোকজন চিকিৎসা ও ঔষুধ নিতে এসে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যায়। রোগীদের সাথে তাদের অনেক জবাবদিহীতা করতে হয়।
বিনোদপুর ইউনিয়নের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও ১ নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী তাছলিমা আক্তার জানায়, বিনোদপুর চরের কান্দি স্বাস্থ্য সেবা দিতে গিয়ে এলাকাবাসীর মুখে শুনতে পেয়েছে জুয়েনা তার স্বামীর কাছে ইতালী চলে গেছে।
এই বিষয়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, সিএইচসিপি জুয়েনার ছুটি বর্ধিত করণে মেডিকেল সনদ পাঠায়। সনদটি আমার কাছে গ্রহণ যোগ্য মনে হয়নি বলে ছুটি বর্ধিত করা হয়নি। ইতোপূর্বে তাকে কয়েকদফায় কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। এই পর্যন্ত কোন জবাব পাইনি। পরবর্তীতে সিভিল সার্জন অফিসকে অবগত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস থেকেও কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। এই পর্যন্ত সিএইচসিপি জুয়েনার কোন সাড়া মিলেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।