মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জাজিরায় ভাঙ্গন আতঙ্ক, ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন পদ্মার তীরবর্তী মানুষেরা

জাজিরায় ভাঙ্গন আতঙ্ক, ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন পদ্মার তীরবর্তী মানুষেরা
ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন পদ্মার তীরবর্তী মানুষেরা। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মার তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। বুঝ হওয়ার পর থেকেই পদ্মার ভাঙ্গন মোকাবেলা করে বেড়ে ওঠা তার। ৪৮ বছর বয়সী এই রবিউল ১৩ বার নদী ভাঙ্গনে পড়েছেন। এর মধ্যে ৮ বার নদীর তীর থেকে বসত ঘর সরিয়ে নিতে হচ্ছে। দুইবার সহায় সম্বলসহ বাড়িঘর ও ফসলি জমি পদ্মায় বিলিন হয়েছে।
হতাশাগ্রস্ত রবিউল দুঃখ নিয়ে বলেন, কি অবস্থায় বসবাস করছি কেউ দেখে না। প্রতি মূহুর্তেই নদী ভাঙ্গছে। কোথায় যাবো জানি না। আমাদের নিয়ে কেউ ভাবে না। তবুও সরকারের প্রতি দাবী জানাচ্ছি ত্রাণ দিয়ে খুশি না করে শক্ত বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করে আমাদের রক্ষা করুন। রবিউলের মতো ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পদ্মায় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। কেউ আবার ভাঙ্গন আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছেন।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জাজিরা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙ্গন আরও তিব্র আকার ধারণ করেছে। পদ্মার ভাঙনে গত দুই মাসে গৃহহীন হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে আরও শতাধিক পরিবারের। বিলীন হচ্ছে কৃষি জমি। সেই সঙ্গে নিঃস্ব হয়েছে শত শত মানুষ।
পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে শরীয়তপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার পূর্ব নাওডোবা, বিলাসপুর, পালেরচর, কুন্ডেরচর ও বড়কান্দি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই দৃশ্য দেখা গেছে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর, চরআত্রা, নওপাড়া, কেদারপুর, ঘড়িষার, ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা, চরভাগা, উত্তর তারাবুনিয়া, চরসেনসাস, গোসাইরহাট উপজেলার আলওয়ালপুর ও কোদালপুর ইউনিয়নে।
ভাঙ্গন কবলিত এলাকার সাহেব আলী মোল্লা, করিম সরদার, কাদির বেপারীসহ পদ্মার তীরবর্তী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানায়, দুই সপ্তাহ আগে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। একই সাথে ভাঙ্গনের তিব্রতা বেড়েছে। নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে ভাঙ্গন ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আতঙ্কে আছেন তারা।
ভাঙ্গন কবলিত জাজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরের ভাঙনে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থায়ী বাঁধ ছাড়া এই পদ্মার ভাঙ্গনের সমাধান নাই।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম আহসান হাবিব বলেন, চলতি বর্ষায় জাজিরা উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন বেড়েছে। শুরু থেকেই জরুরী ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে তীর রক্ষার জন্য প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জাজিরা ভাঙ্গন কবলিত এলাকা স্থায়ীভাবে রক্ষা পাবে।
শরীয়তপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আজিম উদ্দিন বলেন, আমরা নিয়মিত নদী ভাঙ্গন ও বন্যা প্লাবিত এলাকার মানুুষের খোঁজ-খবর রাখছি। ভাঙ্গন এলাকার প্রতি পরিবারকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতি পরিবারকে দুই বান্ডেল করে ঢেউটিন দেওয়া হবে। আমাদের কাছে ৮০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ লাখ টাকা মজুদ আছে। আপদকালে তা বিতরণ করতে পারব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।