মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সিনথিয়ার মা পাগলী, তবে বাবা কে?

সিনথিয়ার মা পাগলী, তবে বাবা কে?
সিনথিয়ার মা পাগলী, তবে বাবা কে?

শরীয়তপুরে কন্যা সন্তানের জন্মধত্রি মা হলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে এক পাগলি। ১৬ মে শনিবার রাত ১১টার দিকে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে এই মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহন করেন সে। নবজাতক কন্যা সন্তানটি তার মায়ের পরিচয় জানতে পারবে। সমাজ ও দেশবাসী জানবে নবজাতক কন্যা সন্তানটি পাগলির মেয়ে। কিন্তু নিস্পাপ শিশুটির পিতার পরিচয় কি হবে? এই নিয়ে চলছে সচেতন মহলের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা। তবে নবজাতক ও তার মায়ের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রশাসন, চিকিৎসক ও সচেতন মহল। নবজাতক ও তার মা ভালো আছেন জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্স।
নড়িয়া উপজেলার ভোজেশর বাজার থেকে শনিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়ন্তী রূপা রায় পুলিশ ও মেডিক্যাল টিম নিয়ে ওই পাগলিকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানেই পাগলির একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পাগলী মা তার নবজাতকের নাম রেখেছেন সিনথিয়া।
জানাগেছে, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারে দীর্ঘদিন যাবত চায়না আক্তার (২৫) নামের মানসিক ভারসাম্যহীন এক পাগলির বসবাস ছিল। ওইদিন রাতে ভোজেশ্বর বাজারের একটি ফার্মেসীর সামনে পাগলি প্রসব বেদনায় কাতরাতে থাকে। পরে বাজারের কতিপয় ব্যবসায়ী পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন এসে পাগলিকে উদ্ধার করে প্রথমে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় এ্যামুলেন্স যোগে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে রাত পৌনে ১২টায় সে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্তান প্রসবের পরপরই নবজাতককে রেখে পাগলি বারবার বেরিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কর্তব্যরত নার্স তাকে বেডে রাখতে সক্ষম হয়। প্রশাসন ও চিকিৎসকের পাশাপাশি সপ্তম শ্রেণীতে পড়–য়া রূপা আক্তার নামে এক ছাত্রী রাতভর পাগলী ও তার বাচ্চার পাশে থেকে মানবিক মনোভাবের পরিচয় দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জণ করেছেন।
ছাত্রী রূপা আক্তার জানান, আমার বোনের বেডের পাশের বেডে ওই পাগলিকে ভর্তি করে। সন্তান প্রসবের পর পাগলির সাথে কেউ ছিল না। নার্সদের পাশাপাশি আমিই শিশুটিকে পরিস্কার করি এবং পাগলির খোঁজ-খবর নেই। সারারাত আমি পাগলি ও তার মেয়ের সাথেই ছিলাম।
সদর উপজেলা সমাজ সেবা প্রমোশন অফিসার তাপস বিশ্বাস বলেন, আমরা সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে নবজাতক ও তার মায়ের সব ধরণের দায়িত্ব নিয়েছি। প্রয়োজনে ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্রে তাকে হস্তান্তর করব।
সদর হাসপাতালের তত্ববাধয়ক ডাঃ মুনির আহম্মেদ খান বলেন, হাসপাতালে ভবঘুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলী কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। নবজাতক ও তার মা সুস্থ আছে । আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে মা ও মেয়েকে বুঝিয়ে দিয়েছি। হাসপাতালে থাকাকালিন তাদের সুচিকিৎসা প্রদান করা হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুর রহমান শেখ বলেন, আমরা সমাজ সেবার মাধ্যমে নবজাতক ও তার মায়ের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছি। মা-মেয়েকে চিকিৎসা সেবার সুব্যবস্থা করা হয়েছে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।