সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সাপের কামড়ে মৃতপ্রায় কৃষককে আধুনিক চিকিৎসায় জ্ঞান ফেরালেন ডাক্তাররা

সাপের কামড়ে মৃতপ্রায় কৃষককে আধুনিক চিকিৎসায় জ্ঞান ফেরালেন ডাক্তাররা
সাপেকাটা রোগী জসিম। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর নড়িয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষাক্ত কিং কোবরার (জাতি সাপ) কামড়ে মৃতপ্রায় রোগীকে আধুনিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করেছেন নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। গত ২ জুন বুধবার পাটের খেতে কাজ করতে গিয়ে মো. জসিম হাওলাদার (৩৫) বিষাক্ত সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়। সাথে থাকা অন্যান্যরা আহত জসিমকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেরাজ মজুমদার সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা শুরু করেন। এর মধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বি এম রাইসুল সাইফ জরুরী বিভাগে এসে চিকিৎসা কাজে সহায়তা করেন। দুই দিনের অব্যাহত চিকিৎসায় জসিম সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এ বিষয় জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেরাজ মজুমদার বলেন, রোগী প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলেন। তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে হচ্ছিল এবং নির্বোধ ছিলো সারাদেহ। তাকে দ্রুত অ্যান্টিভেনম এবং প্রথমবারে ১০টি ভায়াল দেয়া হয়। তাতেও রোগীর জ্ঞান না ফেরায় আরো অ্যান্টিভেনমসহ অন্যান্য ঔষধ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে একটি মেডিসিন নড়িয়া উপজেলা পর্যায়ে না পাওয়ায় শরীয়তপুর সদর থেকে আনা হয়।
এ ছাড়াও রোগীকে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করাসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। পুরো সময়জুড়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সফিকুল ইসলাম রাজীব রোগীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর রোগী কিছুটা শঙ্কামুক্ত হন। এখন রোগী সুস্থ আছেন বলে তাকে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিএম রাইসুল সাইফ বলেন, আমরা আন্তরিকতার সাথে যেকোনো রোগীর চিকিৎসা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। সাপেকাটাসহ সকল রোগী যাতে নির্ভয়ে এখানে আসেন সেটাই আমাদের কাম্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সফিকুল ইসলাম রাজীব বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের দেওজুরী গ্রাম থেকে মো. জসিম হাওলাদার নামে একজন সাপেকাটা মৃতপ্রায় রোগীকে নিয়ে আসে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলেও আমরা তার চিকিৎসাসেবা শুরু করি। চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরে রোগীর চেতনা ফিরে আসে। এখন সেই রোগী শঙ্কামুক্ত আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।