শুক্রবার, ৫ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ৫ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জপসা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুলের সংবাদ সম্মেলন

জপসা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুলের সংবাদ সম্মেলন
জপসা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুলের সংবাদ সম্মেলন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল বেপারী জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১৪ মে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জপসা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তিনি তার বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।
তিনি বক্তব্যে বলেন, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত বয়াতী বেশীরভাগ সময় ঢাকাতে অবস্থান করেন। আমাকেই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদের কতিপয় সংরক্ষিত মহিলা ও সাধারণ সদস্যগণ করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে খেটে খাওয়া নিন্ম আয়ের মানুষদের ঘরে রাখতে সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণ আত্মসাৎ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের তৎপরতায় ওই চক্রটি ব্যর্থ হয়ে পরিষদের সুনাম নষ্ট করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান আরও বলেন, জপসা একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে যে সকল লোকেরা চেয়ারম্যান হয় তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান ভালোই থাকে। করোনায় লক-ডাউন চলাকালে আমরা ৭ বার সরকার প্রদত্ত ত্রান নিন্ম আয়ের কর্মহীন মানুষের নাম তালিকা করে বিতরণ করেছি। ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছি ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য মজিবর ছৈয়াল তার আপন ভাই, বোন ও পিতার নামে ত্রাণ গ্রহন করেছেন। পঞ্চমবার আবার যখন তালিকা সংগ্রহ করা হয় তখন তার ভাই, বোন ও পিতার নাম তালিকায় সংযুক্ত করে। একই ব্যক্তি একাধিকবার ত্রাণ গ্রহন করা নিয়ম বহির্বভুত তাই আমরা মজিবর ছৈয়ালের তালিকা স্থগিত রাখি।
১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মমতাজ বেগমের পরিবর্তে তার স্বামী চান মিয়া আকন পরিষদে আসে। চান মিয়া আকন মমতাজ বেগমের অসম্পন্ন তালিকা দাখিল করে ত্রাণ বুঝে নেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ত্রাণ নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝামেলা হচ্ছে দেখে মমতাজ বেগমকে পরিষদে আসার জন্য বলি। এতে চান মিয়া আকন ক্ষুদ্ধ হয়। পরে ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য মজিবর ছৈয়াল ও ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য (সংরক্ষিত) মমতাজ বেগমের স্বামী চান মিয়া আকন ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য ইউনুছ বেপারীকে সাথে নিয়ে ত্রাণ বিতরণে ঝামেলা সৃষ্টি করে।
এই পর্বে ১৫ কেজি চাল এবং নগদ ৪৮ টাকার পরিবর্তে ১ কেজি আলু ও আধা কেজি পেঁয়াজসহ ২৭৪ জনকে ত্রাণ দেই। এই কুচক্রীমহলটি শতাধিক লোকজন নিয়ে এসে ত্রাণ বিতরণে বাঁধা প্রদান করে। পরবর্তীতে কতিপয় সাংবাদিক এনে ইউনিয়ন পরিষদের অনেক দূর থেকে একজনের চালের বস্তা ফিরিয়ে এনে চাল কম আছে বলে অভিযোগ করে। কিন্তু আমরা যে ভাবে চাল বিতরণ করছি সেখানে চাল কম দেয়ার কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ত্রাণ বিতরণ করার কথা ছিল। ট্যাগ অফিসারদের আসতে সামান্য দেরি হওয়ায় সকাল সারে ১০টা থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল বেপারী আরও বলেন, জপসা ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সকল সময়ই শক্তিশালি হয়। সামনে নির্বাচন তাই চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই কুচক্রী মহলটি তৎপর রয়েছে। তাছাড়া চেয়ারম্যান শওকত বয়াতী নিজেই ইউনিয়নে ১১০০ পরিবারের মাঝে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ত্রাণ দিয়েছেন। সেই পরিষদে সরকারি ত্রাণ তছরূপ হওয়ার কথা কল্পনাও করা যায় না। আমরা একটি চক্রান্তের মধ্যে আছি। মানবসৃষ্ট এই চক্রান্ত থেকে আমরা মুক্তি কামনা করছি।
ট্যাগ অফিসার নড়িয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরুন্নাহার ও সমাজ সেবা অফিসার মোমিনুল পলাশ বলেন, আমাদের উপস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণের মধ্যে ছিল ১৫ কেজি চাল। নগদ ৪৮ টাকার পরিবর্তে ১ কেজি আলু ও আধা কেজি পেঁয়াজ। আমাদের উপস্থিতিতে ত্রাণ বিতরনে কোন অনিয়ম লক্ষ্য করা যায় নাই।

জপসা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত বয়াতি বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তাদের কেউ হত্যা মামলার পলাতক আসামী, কেউ স্ত্রীর পরিবর্তে পরিষদের কাজ চালায়, কেউ অসম্পন্ন তালিকা দিয়ে নিজের বাপ, ভাই, বোন সহ নিকট আত্মীয়দের নামে একাধিকবার ত্রাণ তুলছে। এরা পরিষদের কোন সভায় থাকে না। এই সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের সতর্ক করা হয়। তাছাড়া আমিই ত্রাণ দেই। ত্রাণের চাল আত্মসাৎ করার কোন ইচ্ছাই আমার নাই। আমি আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করলে অনিয়মকারী সদস্যদের সদস্যপদ বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় এই ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।