বুধবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
বুধবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নশাসনে রাস্তা নির্মাণে টিআরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নশাসনে রাস্তা নির্মাণে টিআরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
নশাসনে এক অর্থ বছর পরে নয়ছয় করে কাজ শেষ করার চেষ্টা এই রাস্তাটির। ছবি-দৈনিক হুংকার।

বরাদ্দ প্রাপ্তির এক বছর অতিবাহিত হলেও নশাসন ইউনিয়নে টিআরের অর্থে কোন কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য সেলিম আকনের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে ইউনিয়নের বাসিন্দাসহ চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যদের মাঝে। ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তার চাপে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নির্ধারিত কাজটি অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করবেন বলে এলাকাবাসীদের আশস্ত করেছেন।
প্রকল্পস্থল পরিদর্শণ, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে গ্রামীণ রাস্তা মেরামত করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে টিআরের সাড়েতিন মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন নশাসন ইউপির ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য সেলিম আকন। আজিজ মুন্সির বাড়ির নিকট নবনির্মিত কালভার্ট এর উপর দিয়ে প্রধান সড়কের সাথে যোগাযোগ রাস্তা নির্মাণের জন্য ২০২০ সনের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেধে দেয় কর্তৃপক্ষ। যথা সময়ে সেই কাজ শেষ না করায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠে। অবশেষে গত মাসে সেই স্থানে আধা মেট্রিকটন পরিমান চালের অর্থের বিনিময়ে নামমাত্র মাটি ভড়াট করে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ করেন।
স্থানীয়রা জানায়, এলাকাবাসী ও কৃষকদের প্রয়োজনে খালের উপর এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের অর্থায়নে বক্স কালভার্ট নির্মাণের জন্য একই মেম্বারকে ১ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। তিনি অপরিকল্পিত ভাবে সেখানে কালভার্ট নির্মাণ করলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে ধান চাষাবাদ বাঁধাগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ও কৃষকদের চাপে কালভাটের তল দিয়ে আবার পাইপ বসিয়ে পানির প্রবাহ সচল রাখে। এবার সেই কালভাটের উপর রাস্তা করার জন্য সারে তিন মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করে তালবাহান করে একই মেম্বার। পরে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কিছু মাটি ফেলে রেখেছেন। যা পায়ে হেটে চলাচলে উপযোগীও হয়নি।
নশাসন ইউপি সচিব আলী আসগর বলেন, মেম্বারকে রাস্তার কাজ সঠিক ভাবে করার জন্য বলেছি। কাজ সঠিক ভাবে সম্পন্ন না করলে ওডিটের সময় সমস্যা হবে।
চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন মোল্যা বলেছেন, এলাকাসীও আমার কাছে একাধিক অভিযোগ করেছে। তাছাড়া ওই মেম্বার টিআরের কাজ সঠিক ভাবে করে না। তাই টিআরের কাজ তাকে আর দেওয়া হবে না।
অভিযুক্ত মেম্বার সেলিম আকন বলেন, গত অর্থ বছরেও সেখানে মাটি ভড়ার করেছি। তা বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে। এবার আবারও কাজ করেছি। এখন চেয়ারম্যান আবারও মাটি ফেলতে বলেছে। আমি আবারও মাটি ভড়াট করব। তাছাড়া একটা কাজ থেকে অফিসে, পরিষদে ও মাষ্টাররুলে টাকা দিতে হয়। একটা কাজ করলে নিজের জন্যও টাকা বাঁচাতে হয়। তাই সঠিক নিয়মে কাজ করতে পারি না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।