শুক্রবার, ৫ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ৫ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নড়িয়ায় কাউন্সিলরের জিম্মায় থাকা ৫০ বস্তা ওএমএস’র চাল উদ্ধার

নড়িয়ায় কাউন্সিলরের জিম্মায় থাকা ৫০ বস্তা ওএমএস’র চাল উদ্ধার
নড়িয়ায় কাউন্সিলরের জিম্মায় থাকা ৫০ বস্তা ওএমএস’র চাল উদ্ধার

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ ওএমএস’র ১০ টাকা কেজি দরের ৫০ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারী) দুপুরের দিকে নড়িয়া পৌরসভার বাংলাবাজারের মোহনা বহুমুখী সমবায় সমিতির কার্যালয় থেকে চালগুলো উদ্ধার করা হয়।

জানাযায় ওই কার্যালয়ে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি করতেন চালের ডিলার জোসনা বেগমের স্বামী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৯নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম সরদার। স্ত্রীর নামে ডিলারশীপ শহিদুল ইসলাম সরদার নিজেই পরিচালনা করতেন এবং তিনি সমিতির লোকজনকে ম্যানেজ করে সমিতির কার্যালয় থেকেই চাল বিক্রি করতেন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০ টাকা দরে ন্যায্যমূল্যে গরীবদের মাঝে বিক্রির জন্য সরকার এ চালগুলো বিশেষ বরাদ্ধ দিয়েছিলেন। যা গত ২০২০ সালের জুন মাসের আগেই বিক্রি কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, ওই সময় কার্ডধারীদের না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রির জন্য চালগুলো মজুদ করে রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ জানুয়ারী) রাত ৮টার দিকে সমিতির ওই কার্যালয়ে করোনাকালীন সময়ের সরকারের বিশেষ বরাদ্ধের চাল রয়েছে জানতে পেরে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর ও ব্যবস্থা নিতে বলেন। নির্দেশ পেয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিলন মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে সমিতির ওই কার্যালয়ের লোকজন ডেকে তালা খুলে ওএমএস’র প্রায় ৫০ বস্তা চাল দেখতে পান। যা করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় গরীবদের জন্য সরকার বিশেষ বরাদ্ধ দিয়েছিলেন।

নড়িয়া উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিলন মিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে নড়িয়া পৌরসভার বাংলাবাজারে গিয়ে একটি সমিতির কার্যালয়ের ভিতর করোনাকালীন সময়ে সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ ওএমএস’র প্রায় ৫০ বস্তা চাল পাওয়া যায়। যা ছয়মাস পূর্বেই বিক্রির কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। চালগুলো প্রায় নষ্টের পথে। আমরা রাতেই ওই কার্যালয়টি সীলগালা করে দিয়ে এসেছিলাম। দুপুরের দিকে চালগুলো জব্ধ করে নিয়ে এসেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিলার জোসনা বেগমের স্বামী শহিদুল ইসলাম সরদার বলেন, চালের মান খারাপ হওয়ায় ওই সময় কার্ডধারীরা চাল নিতে আসেননি। বিষয়টি আমি পৌরসভা মেয়রকে জানিয়েছি। তিনি কোন ব্যবস্থা নিতে বলেননি। তাই চালগুলো ওখানেই রয়ে গেছে।

উপজেলা বির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তানভীর আল নাসিফ বলেন, বুধবার রাতে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরে তাৎক্ষনিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। ঘটনার সত্যতা পওয়ায় রাতেই ওই কার্যালয়টি সীলগালা করে দেই। আজকে দুপুরের দিকে চালগুলো জব্ধ করে নিয়ে এসেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।