সোমবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
সোমবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫, বাড়ি-ঘর ভাংচুর

নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫, বাড়ি-ঘর ভাংচুর
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত এক ব্যক্তি। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২ জনের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। ৯ জানুয়ারি শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মোক্তারের চর ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বার তারেক ভূইয়া ও সাবেক মেম্বার মোস্তফা মাদবরের ছেলে জাকির মাদবরের এবং তাঁদের সমর্থক ও লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত সপ্তাহে হারুন মল্লিকের মেয়ের বিয়েতে দিদার মাদবরকে দাওয়াত না দিতে বলেছিলেন তারেক ভূইয়ার সমর্থকরা। তাদের কথা না শুনে জাকির মাদবরের সমর্থক দিদার মাদবরকে দাওয়াত দেন হারুণ মল্লিক। এ ঘটনায় তারেক ভূইয়ার সমর্থকের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তারেক মেম্বারের বাড়ি ও তার সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে জাকির মাদবরের সমর্থকরা। এ ঘটনার জেরে শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত ১২ জনের ভিতরে দুই জনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা দুই জন হলেন আবুল কালাম ভূইয়া ও দিদার মাদবর। বাকীরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ব্যাপারে নড়িয়া থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া বলেন, জাকির মাদবরের লোকজন তারেক ভূইয়ার সমর্থকদের বাড়ি ঘর ঘেরাও করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। জাকির মাদবরের লোকজন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এতে আমরা কয়েজন গুলি বিদ্ধ হয়েছি। ৪০/৫০টি বসত ঘর ভাংচুর করেছে জাকির মাদবরের সমর্থকরা।
জাকির মাদবরের সমর্থক আহত মিলন বলেন, আমাদের লোকজন আটকিয়ে রাখছে তাকে উদ্ধার করতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়, এক পর্যায়ে আমাদের সাথে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়।
জাকির মাদবরের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে বাসায় গিয়ে পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, দু গ্রুপে সংর্ঘেষ ঘটনা ঘটেছে। উভয় গ্রুপের ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।