শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

৯ বছরেও শিকল বন্দি থেকে মুক্ত হতে পারেনি রিতা আক্তার

৯ বছরেও শিকল বন্দি থেকে মুক্ত হতে পারেনি রিতা আক্তার
শিকল বন্দি রিতা আক্তার। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের রিতা আক্তার (২৫) ৯ বছর যাবৎ শিকল বন্দি হয়ে আছে। ঘরের পাশে একটি ছোট বাঁশের মাচায় কাটে তাঁর দিবা-নিশি। একা একা নিজে নিজেই কথা বলতে থাকে সে। বাঁশের মাচালের পাশেই একটি গাছের সাথে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় তাকে।
বাড়ির লোকজন এবং পাড়া প্রতিবেশীরা জানান, লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিলো রিতা। স্থানীয় কার্তিকপুর স্কুল থেকে এসএসসি’র জন্য টেস্ট পরীক্ষাও দিয়েছিলো। তবে কিভাবে কিসের থেকে এরকম হয়ে গেলো বুঝে উঠতে পারিনি। তবে তার বাবা মা জানান জ্বর হয়েছিল এরপর থেকেই ও এরকম হয়ে গেছে। আমাদের আর্থিক অবস্থা দূর্বল হওয়ায় রিতার চিকিৎসা করাতে পারিনি।
যতটুকু সাধ্য ছিলো তা দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে এখন রিতার পরিবারটি সর্বশান্ত প্রায়। নড়িয়ার উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ডিঙ্গামানিক গ্রামের আলাউদ্দিন দেওয়ান ও মাতাঃ মেহের বানুর ৫ মেয়ের মধ্যে রিতা আক্তার (২৫) চতুর্থ সন্তান। আলাউদ্দিন দেওয়ানের সংসারে একটি মাত্র ছেলে তাও আবার বেকার। জানা গেছে রিতার বাবা বয়স বাড়ার কারণে কোন কাজ করতে পারেন না। অভাব অনটনের সংসারে একটি মাত্র ভাই সেও বেকার। এদিকে তাকে খাওয়া দাওয়া এবং দেখাশোনা করেন তার বয়স্ক মা মেহের বানু। ঠিকমতো তিনবেলা খাবার জোগাতেই কষ্ট তাদের, চিকিৎসা করাবেন কিভাবে?
রিতার পরিবারের লোকজন জানান, টাকার অভাবে চিকিৎসা না হওয়ায় মানসিক ভারসাম্য আরো অবনতি হয়েছে রিতার। যার কারণে ৯ বছর যাবৎ শিকলে বাঁধা রয়েছে তার স্বপ্ন গুলো। যে বয়সে তার স্বামী সন্তান নিয়ে শশুরবাড়িতে একটি সাঁজানো গুছানো সংসার থাকার কথা, সেখানে ভাগ্য তাকে শিকল বন্দী করে রেখেছে। তবে উন্নত চিকিৎসা ও সহযোগীতা পেলে রিতা আক্তার আবারো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে দাবী তার পরিবারের। রিতার পরিবারের সহায় সম্পত্তি যাহা আছে এতে একটি ভাঙ্গা ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই। অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় কাটছে রিতার শিকলে বাধাঁ বন্দি জীবন।
তার স্বজনরা জানান, আমরা গরীব, দিন এনে দিন খাই, কোন ভালো কিছু খাবার এনে ওকে কোনদিন খাওয়াতে পারিনা। ওর খাওয়া দাওয়ায় তো কম লাগে না, অনেক কষ্ট করে চলতে হয়। সরকারীভাবে প্রতিবন্ধী ভাতাও নেই।
এ বিষয়ে রিতার চাচা মোঃ সোহরাব দেওয়ান (৪৫) বলেন, ওরা অনেক অসহায়, টাকার অভাবে অনেক কিছুই করা যায় না, ভালো চিকিৎসা দিতে পারলে হয়তো সে ভালো হয়ে যেত। খাওয়া দাওয়া জামা কাপড় এ গুলোতেও কম খরচ লাগে না। তাই সমাজের বিত্তবানরা যদি ওর জন্য কিছু করতো তাহলে হয়তো ওদের কষ্ট থাকতো না।
শিকলে বেঁধে রাখার কারণ জানতে চাইলে রিতার ভাই অন্তর (২১) জানান, শিকলে বেঁধে না রাখলে মানুষ কে মারধর করে। এছাড়াও বিভিন্ন দিকে চলে যেতে চায়। তাই তাকে শিকলে বেঁধে রাখি নাহলে সে পালিয়ে যায় এবং বিভিন্ন সমস্যা করে। তিনি আরো জানায়, যদি টাকা জোগাড় করতে পারি বা কোন আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা পেতাম তাহলে আমার বোনের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং তার খাওয়া দাওয়া নিয়েও কোন সমস্যা হতোনা। এমন অবস্থায় তিনি সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।