বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

নওপাড়ায় পদ্মা নদীতে অবৈধ ঘের দিয়ে মাছ শিকার

নওপাড়ায় পদ্মা নদীতে অবৈধ ঘের দিয়ে মাছ শিকার
নওপাড়ায় পদ্মা নদীতে অবৈধ ঘের। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাছের ডালপালা ও বাঁশ ফেলে এর চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ফলে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘেরগুলোতে মাছের খাবার দেওয়ায় স্থানীয় লোকজন নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছে না।
পদ্মা নদীর নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া থেকে জাজিরা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। নদীর কোথাও তীরবর্তী, কোথাও কোথাও মাঝনদীতে ডালপালা, বাঁশ ফেলে ঘের তৈরি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে এমনভাবে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে যে সেখানে নৌ চলাচলের কোনো পথও নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলে আনছার আলী সিকদার বলেন, শুরুতে গাছের ডালপালা, কচুরিপানা ও বাঁশ ফেলা হয়। এরপর ওই স্থানে প্রচুর পরিমাণে মাছের খাবার ফেলার পর মাছ চলে এলে চারদিকে জাল দিয়ে ঘিরে মাছ আটকানো হয়। একে বলে ঝোপ। পরে এর ভেতরে চলে পোনাসহ মাছ শিকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলে বলেন, উন্মুক্ত নদীতে একসময় অনেক মাছ ছিল। নদীতে প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। কিন্তু আট-দশ বছর ধরে নদীতে ঠিকমতো নামতে পারেন না তাঁরা। যেখানে-সেখানে ঝোপ তৈরি করায় মাছ ধরার নৌকা চালাতে পারেন না। ঝোপের আশপাশে মাছ ধরতে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সাজলু বেপারী বলেন, মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত মুন্সীগঞ্জ ও ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার কুড়াপাড়ার কুমারেশ (৪৫), বিনয় (৫৫), মনমালো (৬৫), নিমাই মালো (৪৩), বগা (৪০), দশরত মালো (৫০) এখানে একত্রে মাছ শিকার করে। গতকাল শুক্রবার সঙ্গে মুঠোফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা সবাই নদীতে ঘের দিয়ে মাছ শিকারের কথা শিকার করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাইকিং করে নদীতে ঘের বানিয়ে মাছ শিকার করতে নিষেধ করা হচ্ছে। ঘেরগুলো সরিয়ে নিতে বলা হচ্ছে। নির্দেশনা না মানলে প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ‘নদ-নদী দখল করে মাছ আটকে ঘের বা ঝোপ দেওয়া মৎস্য আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিগগিরই প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।