বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি
বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নড়িয়ায় আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিষ্ফোরণ নিয়ন্ত্রনে পুলিশের ফাঁকা গুলি

নড়িয়ায় আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ঘে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ছবি-দৈনিক হুংকার।

নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দুই শতাধিক ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ৫২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় নড়িয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কোন পক্ষেই এখনো মামলা করেনি তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা আওয়ামলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাদশা শেখ ও নড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম চৌকিদার, পৌরসভা আওয়ামলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোখলেছ বেপারী গ্রুপের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ করে উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ঘন্টা ব্যাপি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের সময় ২ শতাধিক ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে তারা। ঘটনার সময় বাজারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে ৫২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে নড়িয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে শাহ আলম চৌকিদার ও মোখলেছ বেপারী সমর্থক মিজান বেপারী (৪০), আল আমিন মোড়ল (২২), অনিক বেপারী (২২), সম্রাট (২৫) ও বাদশা শেখের সমর্থক নুর হোসেন খান (১৮), বাবু ছৈয়াল (১৮) সহ উভয় গ্রুপের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে নড়িয়া বাজার ও আশ পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নড়িয়া পৌরসভা আওয়ামলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোখলেছ বেপারী বলেন, আমি নড়িয়া বাজারে মাছের ব্যবসা করি। প্রায় ৩ মাস পূর্বে বাদশা শেখ ও তার লোকজন আমাকে ও আমার ভাইদের মারধর ও ভাংচুর করে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যায়। সেই থেকে বাদশা শেখ আমাদেরকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। তার ভয়ে প্রায় ৩ মাস যাবৎ আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রাতে হঠাৎ করে বাদশা শেখের নেতৃত্বে দুই দিক থেকে আমাদের উপর হামলা চালায়। পরে আমরা আত্মরক্ষায় তাদেরকে প্রতিহত করি।
নড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম চৌকিদার বলেন, আমরা কয়েক জন মিলে নড়িয়া বাজর সংলগ্ন ব্রীজের পাশে একটি দোকানে বসা ছিলাম। হঠাৎ করে বাদশা শেখের লোকজন কোন ঘটনা ছাড়াই পরিকল্পিত ভাবে ককটেল বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ৪/৫ জন লোক আহত হয়।
নড়িয়া উপজেলা আওয়ামলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাদশা শেখ বলেন, আমার সমর্থক নড়িয়া বাজারের তেল ব্যবসায়ী রিপন শেখের সাথে শাহ আলম চৌকিদারের সমর্থক রাজ্জাক ছৈয়ালের সাথে ডিজেল ক্রয় বিক্রয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে এ নিয়ে শাহ আলম চৌকিদার ও মোখলেছ বেপারীর লোকজন ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের লোকজনের উপর হামলা করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আমার ২/৩ জন সমর্থক আহত হয়।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য নিয়ে আওয়ামীলীগের তিনটি গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শাহ আলম চৌকিদার ও মোখলেছ বেপারী এক পক্ষ নেয় এবং অপর পক্ষ বাদশা শেখের সাথে এ ঘটনা ঘটে। আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রন করতে ৫২ রাউন্ড সর্টগানের (রাবার বুলেট) ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করি। এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ মামলা করেনি। তবে পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।