রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ রজব ১৪৪৪ হিজরি
রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

মজিদ নিখোঁজের বিষয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তদন্ত করছে পুলিশ

নিখোঁজ মজিদ সরদার। ছবি-সংগৃহিত।

মজিদ সরদার (৩০) নামে এক কর্মচারী দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নড়িয়া উপজেলার পন্ডিতসার বাজারে মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সে কর্মরত ছিল। প্রতিষ্ঠান মালিক সহ বাজারের সকল ব্যবসায়ী ও ক্রেতার কাছে ছিল মজিদের গ্রহণযোগ্যতা। তবে ১ নভেম্বর রাত থেকে মজিদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কি হয়েছে মজিদের সাথে তা অন্তরালে রয়েছে। তবে এই বিষয়ে নড়িয়া থানায় মজিদের পরিবার ও দোকান মালিকের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
উভয়ের লিখিত আবেদন, বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মচারী মজিদ সরদার নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রামের মৃত রতন সরদারের পুত্র। পিতার মৃত্যুর পরে দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে মজিদ উপজেলার বাহির কুশিয়া গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী শাজাহান খন্দকারের মেসার্স খন্দকার টেডার্সে কাজ করত। বিশ্বস্ততার দিক দিয়ে মালিক ও পন্ডিতসার বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের কাছে মজিদের গ্রহণ যোগ্যতাও ছিল চোখে পড়ার মত। ব্যবসায়িক হিসাবসহ সকল দায়িত্ব পালন করত। হঠাৎ করে সেই বিশ্বস্ত কর্মচারীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মজিদকে খুন করে লাশ গুম করা হয়েছে মর্মে থানায় অভিযোগ করেছেন মা সাহিদা বেগম। প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপন করেছে মর্মে পাল্টা অভিযোগ করেছেন মালিক শাজাহান খন্দকার।
মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সের অপর কর্মচারী রামু দত্ত, বাজারের পুরানো ব্যবসায়ী মজিদ ভূইয়া, জসিম মিয়া ও তপন দত্ত জানায়, কর্মচারী হিসেবে মজিদ খুব ভালো ও সৎ ছিল। দীর্ঘ দেড়যুগে মজিদের সাথে কারো কোন দ্বন্দ্ব বা কথা কাটাকাটিও দেখেনি তারা। মজিদের নিখোঁজ বা আত্মগোপণ সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে।
বহুদিন ধরে একই সাথে থাকা ও খাওয়ার সঙ্গী মাস্টার আলমগীর জানায়, সেই দিন রাত পৌনে ১১টায় মজিদকে নিয়ে এক সাথে রাতের খাবার শেষ করে যার যার কক্ষে ঘুমাতে যায়। সকাল থেকে মজিদকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মজিদের সাথে কোন খারাপ ছেলেদের সম্পর্ক ছিল না। তাছাড়া মজিদ কোন জুয়া বা মাদকের সাথেও জাড়িত ছিল না।
মজিদের মা সাহিদা বেগম জানায়, মালিকের ছেলে সুমন খন্দকার নেশা করে। মাঝে মধ্যে দোকান থেকে জোর করে টাকা নিত। এই বিষয়ে মালিক ও তার ছেলে সুমন খন্দকারের মধ্যে ঝগড়া হয়। তাই মালিক ও তার ছেলে মিলে মজিদকে খুন করে লাশ গুম করেছে।
সুমন খন্দকার জানায়, সে আলাদা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। এই দোকান থেকে সে নগদ টাকায় সওদা কিনতেন। মজিদ আইপিএল জুয়া খেলত ও মদ খেত। তাই অনেক টাকা আত্মসাৎ করে মজিদ পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
থানায় অভিযোগ পরবর্তী শাজাহান খন্দকার পুনরায় আমেরিকা চলে গেছেন, সেখান থেকে তিনি মোবাইল ফোনে জানায়, দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মচারী মজিদকে তিনি দোকান পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে যায়। তিন বছর পরে দেশে ফিরে দোকানের হিসাব চাওয়ায় মজিদ আত্মগোপন করেছে। চলে যাওয়ার সময় তার ব্যবহারের সকল জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন মোকামে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বকেয়া রেখেছে মজিদ। অথচ ফোনে জানিয়েছে ব্যবসা ভালই চলছে এবং লাভ হচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জালাল উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।