বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ডামুড্যায় উপজেলায় সফল জয়িতা হলেন যারা

ডামুড্যায় উপজেলায় সফল জয়িতা হলেন যারা
ডামুড্যায় উপজেলায় সফল জয়িতা হলেন যারা

২০২০ সালে ডামুড্যা উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর নির্বাচন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিম্নলিখিত পাঁচ নারীকে স্বস্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচন করা হয়েছে। তারা হলেন:-
সফল জননী নারী : ডামুড্যা উপজেলার উত্তর ডামুড্যা গ্রামের ফাতেমা শাহাদাত, স্বামী: মৃত শাহাদাত হোসেন খান। ফাতেমা শাহাদাত একজন সফল জননী নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার সফলতার মধ্যে রয়েছে তার ৬ ছেলে মেয়ে সবাই শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তার বড় মেয়ে ফারহানা খানম বুয়েট থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি বর্তমানে ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। দ্বিতীয় মেয়ে জোবায়েদা খানম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (বি.এ অনার্স, এম.এ) করেছেন। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ সাবেক সিনিয়র অফিসার ছিলেন। তৃতীয় মেয়ে শাসসুন্নাহার খানম জাপানের তয়োহাসি বিশ্ববিদ্যালয় অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রোফেসনালস্ এর এসোসিয়েট প্রফেসর। ছেলে শরীয়ত উল্লাহ (বি.এ অনার্স, এম.এ : ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, রিসার্স স্টুডেন্ট- নাগোয়া ইউনিভার্সিটি, জাপান), কো-অর্ডিনেটর : CEJB Centre| আরেক ছেলে রিয়াজ হোসেন খান (বি.এ অনার্স, এম.এ : ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়) এম.এস Texas A& M University, USA)) গবেষক: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্য। আরেক মেয়ে ফারজানা নুসরাত (এল এল বি, এল এল এম), এডভোকেট : সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ।
তাঁর স্বামী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় শত ব্যস্ততার দরুণ সংসার তথা পরিবার এর জন্য সময় দিতে না পারলেও তিনি বাবা এবং মায়ের উভয়ের দায়িত্ব পালন করে যান সন্তানদের মানুষ করতে। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের লেখাপড়া, তাদেরকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় নিয়ে একাই লড়ে যান তিনি। নিজের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা না করে সন্তানদের ভবিষ্যত যেনো অতলে হারিয়ে না যায় সর্বদা এ চিন্তাই করেছেন তিনি। একজন রত্নগর্ভা মা তিনি। সন্তানদের জন্য তার আত্মত্যাগকে সম্মাননা জানাতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তবায়িত “জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ”শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় সফল জননী নারী ক্যাটাগরীতে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত করা হয়।
অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী : ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের মোঃ নুরুল আমিন মৃধার স্ত্রী নাজমা খাতুন ৮ম শ্রেণীতে পড়ার সময় তার বাবা মা তাকে বিয়ে দিয়ে দেন। স্বামীর অভাবের সংসারে ক্ষুধা, দারিদ্রতা ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। স্বামীর উপার্জনের আশায় না থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে বাড়িতে হাস মুরগি পালন, বাঁশ বেতের কাজ, নকশী কাঁথার কাজ করে সংসারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করে। পরবর্তীতে সেলাই প্রশিক্ষন নিয়ে ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে সেলাই মেশিন ও কাপড় ক্রয় করে বাড়ীতেই টেইলারিং কাজ করে। এছাড়া ছাগল ক্রয় করে, পালন করে ও বিক্রি করে। স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় বড় ছেলেকে সাথে নিয়ে মাছের চাষ করে। এছাড়া তার মাছের খামারে অন্যকেও কাজ করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তার অদম্য সাহস আর হার না মানা শক্তি এবং পূর্বের তুলনায় অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার জন্য তাকে অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরীতে নির্বাচিত করা হয়।

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী : ডামুড্যা উপজেলার উত্তর ডামুড্যা গ্রামের মোক্তার হোসেন খান এর স্ত্রী শামিমা হোসেন বর্তমানে ডামুড্যা উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী। নান্দ্রা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি। জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (সাবেক) সভাপতি। এছাড়া রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত আছেন। দুঃস্থ মহিলা ও শিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, আর্থিক সহায়তা প্রদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদানের সাথেও সরাসরি জড়িত আছেন। সমিতির মাধ্যমে বিনা পয়সায় দুঃস্থ মেয়েদের সেলাই ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন যেন সমাজের অসহায় মেয়ে গুলো আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারে। সমাজের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজসহ নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার, নারী নেতৃত্ব সহ বিভিন্ন তৃণমূল নারীদের বাল্য বিবাহের কুফল, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ স্বাস্থ্যসেবা সর্বোপরি সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। সমাজের অবহেলিত বঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করছেন যাতে করে সমাজে নারীরা আর পিছিয়ে থাকতে না পারে। সমাজের মানুষের নারী, পুরুষ, শিশু বৃদ্ধ সকলের কল্যাণের জন্য তাঁর এই নিরন্তর ছুটে চলা এবং সেবামূলক কাজকে সম্মাননা জানাতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তবায়িত “জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ” শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরীতে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত করা হয়।
নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী : ডামুড্যা উপজেলা আদাশন গ্রামের মোঃ শামছুল হক সরদারের মেয়ে মোসাঃ নাছিমা বেগম মাত্র ১৫ বৎসর বয়সে বিয়ে করে স্বামীর সংসারে যান। সেখানে অভাব অনটল ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। তার উপর স্বামীর নির্যাতন তো আছেই। কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার কারনে স্বামী, শ্বশুড়-শ^াশুড়ী, ননদ সবাই তাকে শারীরিক মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো। তাকে ঠিকমতো খাবার দিতোনা। যৌতুকের জন্যও স্বামীর পরিবারের লোকদের নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে তাকে। অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকলে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে স্বামীর বাড়ী থেকে বাবার বাড়ী চলে আসেন তিনি। এতেও মুক্তি মেলেনা তার। স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে। বাবার অর্থ সম্পত্তি না থাকায় মেয়েকে নিয়ে দু-বেলা খাবার জুটানোর জন্য অন্যের বাড়ীতে কাজ করেন, মেয়ে একটু বড় হলে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টস এ কাজ করেন। গার্মেন্টস এ কাজ করে টাকা জমিয়ে বাড়ীতে ঘর তোলেন। মেয়েকে লেখাপড়া করান। বর্তমানে মেয়ে তার গোসাইরহাট শামসুর রহমান কলেজে ইংরেজীতে অনার্স পড়ছে। স্বামী-শ্বশুরবাড়ীর লোকদের নির্যাতনের বিভীষিকা থেকে নিজেকে মুক্ত করে একলা জীবন সংগ্রামে মেয়েকে নিয়ে নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে সফলতার সাথে জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়ায় তাকে সম্মাননা জানাতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তবায়িত “জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ” শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছে যে নারী ক্যাটাগরীতে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত করা হয়।

শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী : ডামুড্যা উপজেলার আদাশন গ্রামের শাহ আলম হাওলাদার এর মেয়ে শেহরিন আলম তিনি শিধলকুড়া হাই স্কুল থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। ভিকারুন নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে বি,এস,এস. সম্মান, এম.এস.এস সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করেন। বর্তমানে ৩৭তম বিসিএস (পুলিশ) হেডকোয়ার্টারে এ.এস.পি পদে কর্মরত আছেন। শিক্ষা জীবন থেকে চাকুরী জীবনে প্রবেশ করা পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতার মাঝেও লেখাপড়াকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে আজ তিনি সফলতার শিখরে আছেন। তাঁর পরিবারে বাবা, অসুস্থ্য মা ৪ ভাই বোন ও অসুস্থ্য দাদী থাকা সত্ত্বেও এক হাতে সংসার সামলে পাশাপাশি লেখাপড়া করে স্কুল জীবন পরবর্তীতে কলেজ এবং বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন সফলতার সাথে শেষ করতে পেরেছেন। তাঁর লেখাপড়ার প্রতি অদম্য ইচ্ছা তাকে তাঁর শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের পথ সুগম করেছে। তাঁর এই সফলতাকে সম্মাননা জানাতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তবায়িত “জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ” শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরীতে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত করা হয়।
এছাড়া ফাতেমা শাহাদাত, শেহরিন ও নাছিমা খাতুন জেলা পর্যায়েও সফল জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন।
ডামুড্যা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতিমা নাহিয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।