সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভ্যান চালিয়ে আলী আজগরের ভাগ্য বদল

ভ্যান চালিয়ে আলী আজগরের ভাগ্য বদল
সফল ভ্যান চালক আলী আজগর। ছবি-দৈনিক হুংকার।

তিন বছর পূর্বে যার নুন পান্তা ফুরানোর অবস্থা ছিল সে আলী আজগর এখন সেমি পাকা ঘরে বসবাস করে। পাঁকা টয়লেট ব্যবহার করে। ছেলে মেয়েদের নিয়মিত স্কুলে পাঠায়। ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের পূর্ব কান্দি গ্রামের দিন মজুর আলী আজগরের এই ভাগ্য বদলের পিছনে সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে একটি ভ্যান।
বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন জেপিজেএস বাংলাদেশ এনজিও ফেডারেশন বিএনএফ এর সহযোগিতায় আলী আজগর কে বিনামূল্যে একটি ভ্যান সহায়তা প্রদান করে। সেই ভ্যান চালিয়ে সাবলম্বি হয়ে আলী আজগর। ৫ সন্তানের জনক আলী আজগরের সংসার চলতো অতি কষ্টে। এক দিন কাজে গেলে তিন দিন বসে থাকতেন সে। প্রতিদিন খাবারের কষ্টে স্ত্রী সন্তানদের ভৎসনা শুনতে হতো তাকে। তার এই সমস্যা দেখে সমব্যাথি হয়ে তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন ধানকাঠি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু হাওলাদার। তিনি জেপিজেএস এর নির্বাহী পরিচালক দীনেশ চন্দ্র দাস এর সাথে আলোচনা করে তাকে একটি ভ্যান সহায়তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। জেপিজেএস এর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে বিনামূল্যে ভ্যান প্রদান প্রকল্পের আওতায় তাকে শর্ত সাপেক্ষে একটি ভ্যান সহায়তা দেওয়া হয়। সেই ভ্যানটি প্রথম অবস্থায় আলী আজগর দৈহিক শক্তি চালানোর কারণে সে বাড়ি নিয়ে ফেলে রাখে। বিষয়টি জানতে পেরে সহায়তাকারী বাচ্চু হাওলাদার ও জেপিজেএস এর নির্বাহী পরিচালক তার বাড়ি গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পান। এ সময় আলী আজগর জানান, ভ্যানটি ব্যাটারী দ্বারা চালানোর ব্যবস্থা করে দিলে তার জন্য ভাল হয়। এর প্রায় ৬ মাস পরে ব্যাটারীর ব্যবস্থা করে আলী আজগরের ভ্যানটিকে বিদ্যুৎ চালিত ভ্যানে পরিণত করে দেন। এরপর থেকে তার আয়ের সংগ্রাম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সে প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি চৌচালা ফ্লোর পাকা টিনসেট ঘর করেছেন। করেছেন একটি পাঁকা টয়লেট। গত ৬ মাস পূর্বে বড় মেয়েকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে বিবাহ দিয়েছেন।
আলী আজগর জানান, তিনি জন্মলগ্ন থেকেই একটু আরাম প্রিয়। সেজন্য কষ্টের কাজ করতে পারেননি। দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে বড়ই কষ্টে চলছিল তার সংসার। এখন তা সবই ছিল কষ্টের স্মৃতি। আজ খেয়ে পড়ে খুবই ভালো আছেন সে। এক সময় টাকার অভাবে প্রথম সন্তান বড় ছেলে লেখাপড়া করাতে পারেননি। তাই বড় মেয়ে এসএসসি পাশ করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেয়ে গাড়ি চালানো শিখছে। ছোট ছেলে নবম শ্রেণিতে ও মেঝ মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট মেয়েটি এখনো স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি। স্ত্রীকে দুইটি ছাগল ক্রয় করে দিয়েছে। এখন আর তাদের সংসারে অথ কষ্টের জন্য না খেয়ে থাকতে হয়না।
সহায়তাকারী বাচ্চু বেপারী বলেন, আলী আজগরের কষ্ট দেখে মনে মনে ব্যাথিত হতাম। আমার সামর্থ না থাকায় তাকে তেমন বড় ধরণের কোন সহায়তা করতে পারিনি। পরে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পিন্টু সাহেবের কাছ থেকে জেনে জেপিএস এর দীনেশ বাবুর সাথে যোগাযোগ করি। তাকে আলী আজগরের অবস্থা দেখানোর পরে সে আমার অনুরোধে তাকে একটি ভ্যান সহায়তা দেন। এই ভ্যানটি চালিয়ে আলী আজগর এখন সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। তার মতো অসহায় মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সহায়তাকারী জেপিজেএস কে আমি ধন্যবাদ জানাই।
ধানকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক পিন্টু বলেন, দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থানের জন্য বিএনএফ এর সহায়তায় জেপিজেএস আমার ইউনিয়নে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরণের সহায়তা দিয়ে থাকে। যার মধ্যে ছাগল, বকনা বাছুর ও ভ্যান বিতরণ। সেই প্রকল্প থেকে আলী আজগর ভ্যানটি পেয়েছিল। যার মাধ্যমে তার ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করে একজন দক্ষ কর্মীর পাশাপাশি নিজের সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। এ প্রকল্প সচল থাকলে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে অসহায় মানুষ গুলো সুখের ঠিকানা খুজে পাবে।
জেপিজেএস এর নির্বাহী পরিচালক দীনেশ চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশ এনজিও ফেডারেশন বিএনএফ এর অর্থায়নে আলী আজগর কে একটি ভ্যান দেই। যার মাধ্যমে সে এখন একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। আমরা সঠিক নির্বাচন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে কাজ করার ফলে আমাদের প্রতিদিন জন সুবিধাভোগীই কম বেশী সাফল্য অর্জন করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমি ধানকাঠি ইউনিয়নের অনেক মানুষকে সাবলম্বি করতে সক্ষম হয়েছি। যার জন্য আমি দাতা সংস্থা বিএনএফ এর কাছে কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।