মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ডামুড্যায় নির্মাণাধীন ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ডামুড্যায় নির্মাণাধীন ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
এই নির্মাণাধীন ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু। ছবি-দৈনিক হুংকার।

ডামুড্যায় ঝুঁকিপূর্ণ নির্মানাধীন বহুতল ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ২০ মে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত নির্মাণ শ্রমিক বিল্লাল হোসেন আকন (৩২) ডামুড্যা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড পশ্চিম কুলকুড়ি গ্রামের মৃত জব্বর আকনের ছেলে। বিল্লাল ডামুড্যা মধ্যবাজারে হোমিও ডাক্তার আব্দুল লতিফ এর নিরাপত্তাহীন বহুতল ভবনে রাজমিস্ত্রীর কাজ করছিল। ডামুড্যা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ডামুড্যা মধ্যবাজারে সাব রেজিস্টার অফিস সংলগ্ন হোমিও ডা. আব্দুল লতিফ ৬তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানছেন না সেই হোমিও ডাক্তার। জনবহুল এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে হলে মূল ভবনের চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টুনি করতে হয়। অথচ এই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় নাই। বৃহস্পতিবার সকালে ভবনের দ্বিতীয় তলায় পল্লী বিদ্যুতের ১১ হাজার ভোল্টেজের তারের কাছে নির্মাণ কাজ শুরু করে রাজমিস্ত্রী বিল্লাল হোসেন। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই বিল্লাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মতো তারের সাথে ঝুলে ছিল সে। পরবর্তীতে ভবনের পাশে পরে যায় সে। স্থানীয়রা ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই ভবন নির্মাণে কোন নিয়ম মানা হয় নাই। শ্রমিকদের জন্যও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নাই এই ভবনে। আজ সকাল ৯টায় দেখা যায় বিদ্যুতের তারের সাথে একজন লোক ঝুলে আছে। প্রায় ৩০ সেকেন্ড পরে লোকটি মাটিতে পড়ে যায়। তখনও লোকটি জীবিত ছিল।
নিহত বিল্লালের স্ত্রী মারিয়া জানায়, লতিফ ডাক্তার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমার স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করাতো। কাজ করার সময় আজ আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আমি একমাত্র সন্তান তাছমিয়া (৬) কে নিয়ে কোথায় যাব। আমি লতিফ ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করব। সে আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে।
নির্মাণাধীন ভবনের মালিক ডাঃ আব্দুল লফিত বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার আবেদন করে নির্মাণ কাজ করেছি। আমার একাধিক আবেদন অফিসে জমা আছে। তবে ভবনে আজ কাজ করার কথা ছিলনা। মিস্ত্রি কোন কিছু না জানিয়ে ভবনে কাজ শুরু করে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডামুড্যা এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজিএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভবনের মালিক ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে শ্রমিক দিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। ভবনের মালিক নির্মাণ কাজের সময় বিদ্যুৎ বন্দের কোন লিখিত আবেদন করেনাই। এমনকি ফোনেও বিষয়টি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অবগত করে নাই। ফোন করেও যদি বিষয়টি অবগত করা হত তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত।
ডামুড্যা থানা অফিসার ইনচার্জ জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রীকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। সে অভিযোগ করলে মামলা নেয়া হবে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।