বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পরিচয়পত্রহীন খাতুন নেছা ঘরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পরিচয়পত্রহীন খাতুন নেছা ঘরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে খাতুন নেছার বাড়িতে ডামুড্যা উপজেলা সহকারী (ভূমি) ফজলে এলাহী।

জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাই পাননা বয়স্ক ভাতা শিরোনামে দৈনিক হুংকার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ১ দিন পরেই শতবর্ষী খাতুন নেছার ঘরে পৌঁছে গেছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান এর নির্দেশে ৪ মে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ডামুড্যা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে এলাহী তার বাড়ি ডামুড্যা উপজেলার পূর্বডামুড্যা ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামে গিয়ে একবস্তা চাঊল, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সওদা পৌঁছে দেন।
এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ ওবায়দুর রহমান, পূর্বডামুড্যা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ লিটনসহ স্থানীয় সংবাদিকবৃন্দ।
ডামুড্যা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে এলাহী বলেন, আমাদের জেলা প্রশাসক স্যার মাধ্যমে জানতে পারি এক বৃদ্ধ মহিলা তার মেয়ের বাড়িতে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তার বয়স্ক ভাতার কার্ডটিও বাতিল হয়ে গেছে। ফলে সে সরকারি-বেসরকারি সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি অবগত হয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নির্দেশে আদিষ্ট হয়ে খাতুন নেছার মেয়ের বাড়ি এসে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিলাম। আমরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সম্ভব সব ধরণের সহায়তা দিব। তাকে ভবিষ্যতে যাতে একটি ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া যায় সে ব্যাপারেও ডিসি স্যার আমাদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে জানাযায়, খাতুন নেছা স্বামী মারা যাওয়ার পর পাগল হয়ে যান। তাকে ঘরে আটকে রাখা হত। সুযোগ পেলেই ঘর থেকে বেরিয়ে চলে যায়। আবার ফিরে আসত। এর আগে দীর্ঘ ১৪ বছর পর পটুয়াখালীর রাঙাবালীর থেকে তাকে সাংবাদিকরা উদ্ধার করে এনে পরিবারের কাছে দিয়ে যায়। তখন সরকারি একটি বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দিলেও বর্তমানে পরিচয়পত্র জটিলতায় তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ছেলে আছে না থাকার মত পাকিস্তান চলে গেছে ত্রিশ বছর আগে। মায়ের কোন খোঁজ খবর রাখে না। একমাত্র মেয়ের ছোট ঘরে গাদাগাদি করে খাতুন নেছাকে রাখেন আর মেয়ে সাহার বানু লাড়কি রাখার ঘরে থাকে। বৃষ্টি হলে ঘর দিয়ে পানি পরে। তখন আর ঘুম আসতে পারে না তারা। বসে থাকতে হয়।
খাতুন নেছার মেয়ে সাহার বানুর বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই মায়ের মাথায় সমস্যা হয়। বিভিন্ন সময় তাকে ঘরে আটকে রাখতাম। হঠাৎ একদিন ঘর থেকে বের হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু পাইনি। গত তিন বছর আগে সাংবাদিকের মাধ্যমে মাকে ফিরে পাই। এর পর থেকে মা আমার কাছে থাকে। সাংবাদিকরা যখন এনে দেয় তখন সরকারি ভাবে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়। কিন্তু তার কিছু দিন পরে স্থানীয় মেম্বার তা নিয়ে যায়। এখন আর কিছু পায় না। জাতীয় পরিচয় পত্র করার জন্য চেষ্টা করছি বয়স্ক বিধায় আঙ্গুলের ছাপ ওঠছে না। তাই করতে পারিনি জাতীয় পরিচয়পত্র।
সাহার বানু আরো বলেন, মাকে নিয়ে অনেকটা অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছি। এই মায়ের জন্য এই বাড়ি থেকে ওই বাড়ি থেকে ভিক্ষা করে এনে খাওয়াইছি। ওর থেকে ওর থেকে চাইয়া কাপড় আনছি। সেই কাপড় আমার মা’কে পড়াইছি। এখনও দুইটা কাপড় দিয়েই জীবনটা পাড় করে যাচ্ছে। এখন আর যাইও না চাইও না। সাংবাদিকদের সহায়তা আজ াাবার সরকারি স্যারে আসছেন। তারা মায়ের জন্য একবস্তা চাউল, বাজার সদায় ও টাকা দিয়ে গেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।