বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দারুল আমানে জমির দ্বন্দ্বে দুই পরিবার নাজেহাল

দারুল আমানে জমির দ্বন্দ্বে দুই পরিবার নাজেহাল
আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার দারুল আমান ইউনিয়নের গুয়াখোলা এলাকায় জমির দ্বন্দ্বে দুটি পরিবার মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েছে। এক পক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রভাব ও পেশি শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ করেছে অপর পক্ষ। তবে স্থানীয়দের দাবী অভিযোগকারী পক্ষই না বুঝে এই ঝামেলাকে স্থায়ী করার চেষ্টা করছে।
মামলার আর্জি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গুয়াখোলা এলাকার আবতাজদ্দিন খান পুত্র আউলিয়া খান, মোতালেব খান, মসজিল খান ও জলিল খানদের রেখে মৃত্যুবরণ করেন। আবতাজদ্দিন খানের মৃত্যু পরবর্তী তার চার পুত্র সম্পত্তির মালিক ওয়ারিশ হয়। তবে আউলিয়া খান নিজ এলাকায় বসবাস না করায় বিআরএস জরিপে পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়। জমি রেকর্ড হয় মোতালেব খান, মজলিস খান ও জলিল খানের নামে। মোতালেব খান ২৩ শতাংশ জমির মালিক থেকে ২০০৬ সনে ১৪৬৮ নং দলিলে সিরাজুল হক হাওলাদারের কাছে ১৫ শতাংশ এবং ৯২৯ নং দলিলে সিদ্দিক মাদবরের কাছে সারে ১৫ শতাংশ (মোট ৩০.৫ শতাংশ) জমি বিক্রি করে নি:স্বত্তবান হয়। ইতোমধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ক্রেতাদ্বয় ৩০.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে বুঝে পায় ২৩ শতাংশ।
পরবর্তীতে মোতালেব খানের ছেলে করিম খান মজলিস খানের মেয়ে রুনু বেগমের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে। সেই জমি বুঝে পেতে এলাকায় একাধিক শালিশ-দরবার ও আদালতে একাধিক মামলা মোকদ্দমা হয়েছে। এতেও কোন সমাধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পক্ষদ্বয়।
শালিস মোকলেছ সরদার, জলিল সরদার ও নজরুল ইসলাম জানায়, মোতালেব খান ২৩ শতাংশ জমির মালিক থেকে ৩১ শতাংশ জমি বিক্রি করে গেছে। তা নিয়ে একটা ঝামেলা লেগে আছে। এবার মজলিস খানের মেয়ে রুনুর কাছ থেকে মোতালেব খানের ছেলে করিম জমি কিনে আবার একটা ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। এখন মসলিস খানের ছেলে মান্নান খান বাড়ি করতে গেলে করিম খান আদালতে মামলা করেছে। এতোদিন বাড়ির কাজ বন্ধ ছিল। মার্চের ২১ তারিখে মান্নানের পক্ষে আদালত আদেশ দিয়েছে। এখন বাড়ির কাজ শুরু করেছে কিন্তু অপর পক্ষ আবার ঝামেলা সৃষ্টি করতেছে।
বাদী করিম খান জানায়, আমার ক্রয়কৃত জমি বুঝিয়ে না দিয়ে বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করতেছে। স্থানীয় ভাবে কোন সমাধান না পেয়ে আদালতে মামলা করেছি। নির্মাণ কাজে বাঁধা দিলেই আমাদের মারধর করে। এখন ঝামেলা নিরশন না করে আবার বেশী শ্রমিক নিয়ে রাতদিন করে নির্মাণ কাজ শেষ করছে। আমি আদালত ও প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার দাবী করছি।
মান্নান খান জানায়, স্বপরিবারে ঢাকায় থাকতাম। চাচাতো ভাই করিম খান আমার পিতার ভিটায় ঘর করার জন্য গ্রামে নিয়ে আসে। এর মধ্যে সে আমার পাগলী বোন রুনুকে ফুঁসলিয়ে তার কাছ থেকে জমি দলিল করে নেয়। আমিও আমার বোনের জমি দিয়ে দিব। পিতার রেখে যাওয়া ভিটিতে ঘর করতেছি। এ ছাড়াও আমার আরও জমি রয়েছে। করিম তার ক্রয়কৃত জমি বুঝে নিতে পারবে। সে তার জমি বুঝে না নিয়ে আমার নামে এই পর্যন্ত ৫টি মিথ্যা মামলা করেছে। সকল মামলা মিথ্যা প্রমান হয়েছে।
রিপন খান ও তার স্ত্রী রোকশানা জানায়, আমাদের বুঝমান কেউ বাড়িতে থাকে না। আমরা কাগজপত্রও ভাল বুঝিনা। এখন আমাদের জমিতে মান্নান ঘর তুলতেছে। আমরা বাঁধা দিলেই এলাকার মানুষের সামনে মারধর করে। এলাকার মানুষ মাইর ছাড়ায় না। টাকা নাই বলে আমরা এলাকায় কোন বিচার পাইনা। থানায়ও মামলা দিতে পারি নাই। পরে আদালতে মামলা করেছি। আমরা ন্যায় বিচার চাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।