রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গবন্ধু কন্যাই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করেছেন

বঙ্গবন্ধু কন্যাই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করেছেন
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহ মাতাব্বর।

সেনাবাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহ মাতাব্বর মনে করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার পরেও বঙ্গবন্ধু মুজিবের নির্দেশে বিয়ের একমাসের ব্যবধানে নববধু, পিতা-মাতা ও পাকিস্তান সরকারের চাকুরীর মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। ৯ মাস সম্মুখ যুদ্ধের পরে অর্জিত স্বাধীন দেশে শান্তি সুখের আশায় জাতির পিতার গড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে আবার দেশ মাতৃকার জন্য কাজ করেছি। শরীয়তপুর জেলার বর্তমান ডামুড্যা উপজেলার আতলাকুড়ি গ্রামের অধিবাসী শহিদুল্লাহ মাতাব্বরের পিতা ছিলেন বিশিষ্ট দানবীর মৌলভী জামশেদ আলী মাদবর। স্থানীয় কনেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কনেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও তৎকালিন কায়েদে আজম কলেজ থেকে নৈশ্যকালিন বিভাগে এইচএসসি পাশ করে ১৯৬৮ সালে তৎকালিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। চাকুরী গ্রহণের ২ বছর পরে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী লাল শরীফ সরদারের কন্যা হোসনে আরা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের এক মাসের ব্যবধানে ২৫ মার্চ কাল রাত থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে শহীদুল্লাহ পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ফিরে না গিয়ে ঘরে নববধু, পিতা-মাতা, ভাই বোনকে রেখে প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান এর সাথে ভারতের মেলাঘর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। এর পরে ভারতের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ৩ মাসের প্রশিক্ষণ আর বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পৌঁছতে যে কষ্ট হয়েছে ৯ মাস যুদ্ধের পরে স্বাধীন বাংলাদেশে এসে বাবা-মা ও স্ত্রীর মুখ দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে সব ভূলে গিয়েছিলাম। জাতির পিতার নির্দেশে আবার নবগঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন সততা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে সেনামুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছি। তার দুই কন্যা ও দুই পুত্র সবাই ভালো এবং নাতি-নাতনি নিয়ে সুখে আছেন বলে জানান। একজন সফল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার কোন চাওয়া-পাওয়া আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন আমরা কোন কিছুর প্রত্যাশায় মুক্তিযুদ্ধ করিনি। বঙ্গবন্ধুর আহবানে ঘর ছেড়েছিলাম। বেঁচে বাড়ি ফিরবো এমন প্রত্যাশাও ছিলনা। আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখার পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদের যে মূল্যায়ন করেছে তাতেই আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুশি। আমার কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা ভালো থাকলেই মুক্তিযোদ্ধারা ভালো থাকবে। তাই আল্লাহর কাছে মিনতি জানাই তিনি যেন মানবতার মা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দীর্ঘ হায়াত দান করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহর সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থার ছবি।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।