সোমবার, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
সোমবার, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ডামুড্যায় প্রতারণা করে জমি দখলের চেষ্টা পক্ষে বিপক্ষে আদালতে মামলা

ডামুড্যায় প্রতারণা করে জমি দখলের চেষ্টা পক্ষে বিপক্ষে আদালতে মামলা
হাসেম রাড়ী। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠিতে প্রতারণা মূলক ভাবে জমি দললের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বিরোধীয় বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে সিআইডি পুলিশ।
মামলার আর্জি, সিআইডি প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানকাঠি ইউনিয়নের চর মালগাঁও ভাদুরি কান্দি এলাকার সিকিম আলী রাড়ীর ছেলে হাসেম রাড়ী। জোবেদা বেগম হাসেম রাড়ীর ফুফু। জোবেদা বেগমের ছেলে রাজ্জাক সরদার তার মায়ের ওয়ারিশ মামা সিকিম আলী রাড়ীর কাছে অনেক আগেই বিক্রি করে গেছেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় হুকুম আলী ভুইয়া ও হাকিম আলী ভুইয়া প্রতারণামূলকভাবে জোবেদা বেগমের নাম বিআরএস রেকর্ডের অন্তর্ভূক্ত করিয়া ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর ডামুড্যা সাব রেজিষ্ট্রার অফিস থেকে ২৯৮৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৬৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে। সেই দলিলমূলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জমি দখলের চেষ্টা চালায় হাকিম আলী ও হুকুম আলী। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় একাধিক শালীস দরবারও হয়। কোন সমাধান না হওয়ায় হাসেম রাড়ী শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দাতা রাজ্জাক সরদার ও ক্রেতা হুকুম আলী এবং হাকিম আলী ভুইয়াসহ ৬ জনকে আসামী করে সিআর-৭/২০ মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সিআইডি পুলিশ শরীয়তপুরকে নির্দেশ প্রদান করেন। সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক কাজী মহসীন বিষয়টি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। সিআইডি প্রতিবেদনে বাদির অভিযোগের সত্যতা রয়েছে।
সিআইডি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিবাদী রাজ্জাক সরদার, হুকুম আলী ও হাকিম আলী সমন্বয়ে বিআরএস রেকর্ড দেখিয়ে যে দলিল সম্পাদন করেছে সেই বিআরএস রেকর্ডে জোবেদা বেগমের নাম উল্লেখ নাই। দলিল সনাক্তকারী আ. জব্বার পেদা মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। কাজী আব্দুর রহিম নামে ডামুড্যা সার রেজিষ্ট্রার অফিসে কোন দলিল লেখকের সন্ধানও পায়নি সিআইডি কর্মকর্তা। তবুও অব্যাহত রয়েছে হাসেম রাড়ীর জমি দখলের চেষ্টা।
এই বিষয়ে বাদী হাসেম রাড়ী বলেন, অন্যায় ভাবে প্রতারণা করে হুকুম আলী ও হাকিম আলী আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করতেছে। আমাকে বাড়িতে গিয়েও মারধরের চেষ্টা করে তারা। আমি অসহায় ও গরীব মানুষ। আমার এই সম্পত্তি অন্যায়ভাবে জোর পূর্বক দখল করে নিলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে পথে বসতে হবে। স্থানীয় ভাবে হাকিম আলী ও হুকুম আলী প্রভাবশালী তাই তাদের সাথে বুঝ করতে পারি না। এবার আদালতে এসেছি। আমি আদালতে ন্যায় বিচার কামনা করছি।
এই বিষয়ে বিবাদী হুকুম আলী ভুইয়া বলেন, আমরা সঠিক ভাবে জমি কিনেও দখলে যাইতে পারছিনা। এই বিষয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি আবার হাসেম রাড়ীও মামলা করেছে। এখন আদালত যে আদেশ দিবে আমি তা মেনে নিব। আমরা হাসেম রাড়ীকে কোন ভয়ভীতি দেখাই না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।