মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ডামুড্যা উপজেলায় সফল জয়িতা যারা

ডামুড্যা উপজেলায় সফল জয়িতা যারা
ডামুড্যা উপজেলায় সফল জয়িতা যারা

২০১৯ সালে ডামুড্যা উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর নির্বাচন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিম্নলিখিত পাঁচ নারীকে স্বস্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচন করা হয়েছে। তারা হলেন-

সফল জননী নারী : ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া গ্রামের মিসেস সেলিনা আলম, স্বামী: শাহআলম হাওলাদার। সেলিনা আলম একজন সফল জননী নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার সফলতার মধ্যে রয়েছে তার চার ছেলে মেয়ে সবাই শিক্ষা ও চাকরী ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তার বড় ছেলে, ছাইদুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী। বর্তমানে এরোড্রোম অফিসার, সিভিল এভিয়েশন অব বাংলাদেশ, হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে চাকুরীরত।

আরেক ছেলে তানভির আহমেদ বুয়েট থেকে মাস্টার্স পাস। বর্তমানে ৩৬তম (বিসিএস এডুকেশন) নড়িয়া সরকারী কলেজ এ প্রভাষক (পদার্থ বিজ্ঞান) পদে কর্মরত। মেয়ে শেহরীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস। বর্তমানে ৩৭তম (বিসিএস পুলিশ) হেডকোয়ার্টারে সহকারী পুলিশ সুপার পদে কর্মরত। আরেক মেয়ে সানজিদা আলম জে.এস.সি পরীক্ষার্থী।
শারীরিক মানসিকভাবে প্রায়ই অসুস্থ্য থাকলেও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিকুলতাকে জয় করে সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। সন্তানরা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। এমন একজন সফল মাকে তার যোগ্য মর্যাদায় ভূষিত করার জন্য উক্ত ক্যাটাগরিতে সফল জয়িতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী : শিধলকুড়া গ্রামের মৃত সালামত সরদার এর স্ত্রী পারভীন আক্তার এমন একজন নারী যিনি নয় বছর ধরে স্বামীকে হারিয়ে বিধবা হয়েও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জীবন চলার পথে থেমে যায়নি। লেখাপড়া বেশি না করায় ভালো চাকরী করতে পারেনি। কিন্তু নিজ উদ্যোগে সেলাই প্রশিক্ষণ, পার্লারের প্রশিক্ষণ, ব্লক বাটিক এর প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতেই স্বল্প পরিসরে সেলাই মেশিন দিয়ে পোষাক তৈরীর কাজ করে, পার্লারের কাজ করে একমাত্র আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন। মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।

পারভীন আক্তারের স্বপ্ন তার মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করবেন। পাশাপাশি তিনি সমাজে আর সকল পিছিয়ে পড়া নারীদের পথ দেখিয়েছেন অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বি হতে। অদম্য এই নারীর সফলতাকে সম্মানিত করার জন্য উক্ত ক্যাটাগরীতে একজন সফল জয়িতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী : ডামুড্যা পৌরসভার মোস্তফা কামাল জুলহাস এর স্ত্রী খাদীজা খানম (লাভলী) এলাকায় সবার কাছে লাভলী আপা নামে পরিচিত। ছোট বড় সবার অতি প্রিয় মানুষ। সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায়, অসংগতি, সকল প্রকার কুসংস্কার এর বিরুদ্ধে সোচ্চার এক অকুতোভয় নারী। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নিয়ে তিনি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। হত দরিদ্র নারী, পুরুষ, শিশু সকলকে তার সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা করেন।

সমাজ বিনির্মাণে ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। সমাজে সকল ক্ষেত্রে সোচ্চার ভূমিকা রাখার পরও সংসার সামাল দিয়েছেন একা হাতে। সফল ভূমিকা রেখেছেন রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার সকল সফলতাকে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে উক্ত ক্যাটাগরীতে তাকে জয়িতা নির্বাচন করা হয়।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী : দারুল আমান ইউনিয়নের কাশেম ওঝার কন্যা সালমা খাতুন একজন নির্যাতিত নারী। দশ বছর আগে বিয়ে হয় সুখে শান্তিতে সংসার করার সপ্ন নিয়ে। কিন্তু বিয়ের পরপর স্বামী আর শশুর বাড়ীর লোকজনের নির্যাতনে তার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়।

বিয়ের বছর খানেক পর তার একটি কন্যা সন্তান হয়। তাকে এবং তার একমাত্র কন্যা সন্তানকে নির্যাতন করে বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দিয়ে তার স্বামী আবার বিয়ে করেন। নির্যাতনের শিকার সালমা নিজের চেষ্টায় সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে টেইলারিং কাজ করে নিজে চলছেন এবং মেয়েকে পড়ালেখা করাচ্ছেন। নির্যাতনের সকল বিভিষিকা পেছনে ফেলে নতুন করে জীবন শুরু করেছেন। তার প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাতে একজন সফল জয়িতা হিসেবে উক্ত ক্যাটাগরীর জন্য তাকে নির্বাচন করা হয়।

শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী : পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের মো: মমিন বেপারীর স্ত্রী আমেনা এমন একজন নারী যিনি নানান প্রতিকূলতা থাকা সত্বেও তিন ভাই, তিন বোন মোট ছয় ভাই বোনের সংসারে নিজ প্রচেষ্টায় লেখাপড়া করেন। বাবার মৃত্যুর পর অসহায় অবস্থায়ও পড়ালেখা থামাননি। বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস এ অধ্যায়নরত।

লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি কেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার পাশাপাশি নিজ স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি ছাড়াও আরো তিনজন শিক্ষক নিযুক্ত করেন তার প্রতিষ্ঠানে। ২০১৯ সালের পিএসসি পরীক্ষায় তার বিদ্যালয় থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে।
সে ০২ সন্তানের জননী। দারিদ্র ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিকূলতা ও ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে বর্তমানে ভালো আছেন তাই উক্ত ক্যাটাগরীতে তাকে সফল জয়িতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

ডামুড্যা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতিমা নাহিয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।