রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ডামুড্যায় করোনায় মৃত মতিনের স্ত্রীকে বিধবা ভাতা প্রদান

ডামুড্যায় করোনায় মৃত মতিনের স্ত্রীর হাতে বিধবার কার্ড তুলে দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্তুজা আল মুঈদ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রথম মৃত্যু হয় ডামুড্যা উপজেলার বিশাকুড়ি গ্রামের আ: মতিন নামে এক ব্যক্তির। আ. মতিনের মৃত্যু পরবর্তী তার বিধবা স্ত্রী রোকেয়াকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে বিধবা ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোকেয়াকে বিধবা ভাতার কার্ড হস্তান্তর করেন ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্তুজা আল মুঈদ। দুই সন্তান নিয়ে বাঁচার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারের কাছে চাকুরীর আবেদন করছেন রোকেয়া।
জানাগেছে, রোকেয়া বেগমের স্বামী আ. মতিন খান ব্যবসা করতেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন সে। মৃত্যুকালে তিনি আরিফা (৬) ও মাহিম (২) নামে দুইটি সন্তান ও স্ত্রী রেখে গেছেন। আ. মতিনের মৃত্যু পরবর্তী জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বিষয়টি জেলা সমাজ সেবার উপ-পরিচালক মো. কামাল হোসেনকে অবগত করেন। পরবর্তীতে জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডামুড্যা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে নিহতের স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে বিধবা ভাতা প্রদান করেন। রোকেয়া বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-৮৬৬৪৬৮০৮৩৫। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ৭ মার্চ ১৯৯৫। তার সোনালী ব্যাংক হিসাব নং-০১০১১৩১৮। রোকেয়া বেগম নজরুল ইসলাম ঢালী ও রেহানা বেগম দম্পতির মেয়ে।
রোকেয়া জানায়, আমার স্বামী জীবিত থাকলে সন্তানদের নিয়ে কোন চিন্তা করতাম না। আমার স্বামীর অবর্তমানে অবুঝ দুই সন্তান নিয়ে আমি কিভাবে বাঁচব। সমাজ সেবার মাধ্যমে আমাকে বিধবা ভাতা দিয়েছেন। এতে আমার উপকার হবে তবে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমার একটা স্থায়ী কাজের দরকার। আমি এসএসসি পাশ করেছি। আমার যোগ্যতার ভিত্তিতে যদি সরকারী একটা অফিসে ছোটখাট একটা কাজ দেয়া হয় তাহলে আমার সন্তানদের শিক্ষিত করতে পারব। আমার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনায় সরকারের কাছে একটা কাজের আবেদন করছি।
জেলা সমাজ সেবার উপ-পরিচালক মো. কামাল হোসেন বলেন, ডিসি স্যার বিষয়টি আমাকে অবগত করেন। সাথে সাথে ডামুড্যা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসারের মাধ্যমে রোকেয়াকে বিধবা ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করি। যদি সে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয় তাহলে আজীবন এই ভাতা পাবে। এছাড়াও কোন সুযোগ সুবিধা থাকলে রোকেয়া ও তার সন্তানদের দেয়া হবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।