শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় স্কুলের মাঠ নয় যেন মাছের ঘের

৪২ নং উওর ডামুড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি-দৈনিক হুংকার।

দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলে স্বাভাবিকভাবে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। স্কুলে গেলে মনে স্কুলের মাঠ নয় যেন মাছের ঘের? এসব কথা বললেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার দারুল আমান ইউনিয়নের ৪২ নং উওর ডামুড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। রাস্তা থেকে স্কুলের মাঠ নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুম গেলেও যায়নি বৃষ্টির পানি, যার কারণে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্কুলটির চারপাশে নিচু থাকায় থই থই করছে পানি। মাঠটির বেশির ভাগ অংশই কচুরিপানা, আগাছায় ভরে গিয়ে জলমগ্নে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে নামতে পারছে না মাঠে। জলাবদ্ধতার কারণে শ্রেণিকক্ষে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীর অনেকেরই পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। জলবদ্ধতার কারণে প্রায় সময় স্কুল বন্ধ থাকে এর পর স্কুল খোলা সত্ত্বেও কমছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ পরিস্থিতিতে দ্রুততার সঙ্গে স্কুল মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনের জোর দাবি জানান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। স্থানীয়রা জানায়, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু সমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া মাঠে জমে থাকা কাদা পানির কারণে শিক্ষার্থীরা শরীরচর্চা ও জাতীয় সংগীত গাইতে পারছে না।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০ টার সময় সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় উক্ত স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত, ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছোটন, আসফিয়া, সুমাইয়া বলেন, আমরা স্কুলে আশার সময় প্যান্ট ভিজে যায় কাদা ও ময়লা পানির জন্য হাঁটতে পারি না। বারান্দা থেকে তো নিচে নামাই যায় না। সেদিন তো আমি পরে গিয়ে ব্যাথা পাই এবং পরনে থাকা স্কুল ড্রেস ভিজে যায়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রাফেজা খানম বলেন, এই স্কুলে ১৪৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বর্ষার পানি জমে থাকায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। এ বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ অনেক কে জানিয়েছি। তারা সমাধান করবে বলে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দিনের কাছে স্কুলের জলাবদ্ধতা ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমার অফিসে কোনো রকম আবেদন আসেনি। আমি ১ সেপ্টেম্বর এ উপজেলায় যোগদান করি। যোগদান করার পর আমি নিজে থেকেই স্কুল ভিজিটে গিয়ে দেখি স্কুলের এই অবস্থা। আমার কাছে লিখিত আবেদন এলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব।
দারুল আমান ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান মমিনুল হক মিন্টু জানান, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কোনো বরাদ্দ না থাকায় এখন মাটি ভরাট করা সম্ভব হয়নি। আপাতত সেচ পাম্প দিয়ে পানি অন্য যায়গায় ফেলে দেব, পরে স্থায়ীয়ভাবে একটা ব্যবস্থা নিবো ইনশাআল্লাহ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবা খান বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি বা কোন আবেদন পাইনি, আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।