শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি
শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রক্ত দেওয়া যাদের নেশা

রক্ত দেওয়া যাদের নেশা
স্বেচ্ছায় রক্ত দিচ্ছেন ব্লাড ট্রান্সফিউশন অর্গানাইজেশন (বিটিও) এর সদস্যরা। ছবি-দৈনিক হুংকার।

রক্তের জরুরী প্রয়োজনে দিশেহারা হয়ে দিকবিদিক ঘুরছেন যারা তাদের জন্য রক্ত নিয়ে যারা পাশে দাঁড়ায় তারাইতো প্রকৃত মানুষ। আর এমন কিছু পরোপকারী মানুষের সন্ধান মিলেছে শরীয়তপুরে। ব্লাড ট্রান্সফিউশন অর্গানাইজেশন (বিটিও) তাদের একটি সংগঠনও রয়েছে। বর্তমানে এই সংগঠনে ৬ শতাধিক রক্তাদাতা রয়েছে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য রক্তের অভাবে যেন কারোর মৃত্যু না হয়। রক্তের চাহিদা পূরণে তারা নিজের শরীর থেকে রোগীকে রক্ত উপহার দিয়ে থাকেন। সংগঠনটি করোনা সহ সকল মহামারিতেও মানুষের পাশে থাকে।
এই স্বেচ্ছাসেবীমূলক সংগঠনের জন্ম হয় ২০১৬ সালে। ১২ বন্ধু আড্ডার ছলে এই সংগঠনের সৃষ্টি করেন। আজ এই সংগঠনে ৬ শতাধিক সদস্য যুক্ত হয়েছেন। রক্তের গ্রুপের সাথে মিলে গেলেই রোগীর জন্য আর রক্তের সমস্যা হয় না। এখন রক্ত উপহার দেওয়াই এই সংগঠনের সদস্যদের নেশা।
বিটিও নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে রক্ত পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একজন বলেন, ডামুড্যার একটি ক্লিনিকে আমার স্ত্রী সন্তান প্রসব করেছেন। সেখানে আমার স্ত্রীর জন্য ‘ও পজিটিভ’ রক্ত দরকার হয়। রক্ত সংগ্রহ করতে আমাকে একটুও বেগ পেতে হয়নি। ‘বিটিও’ সংগঠনকে জানাতেই ৩০ মিনিটের মধ্যে সংগঠনের এক সদস্য ছুটে আসে। সে রক্ত দিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন।
সংগঠনের সদস্য খোরশেদ আলম টিপু। এখন পর্যন্ত ১৯ বার রক্ত উপহার দিয়েছেন দাবী করে বলেন, মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। রক্ত উপহার দিয়ে আমরা যে খুব মহান কাজ করছি এমন গৌরবের কিছু নেই। আসলে রক্ত উপহার দিলে যে আনন্দ পাওয়া যায় তা বলে বোঝানো যাবে না। তাছাড়া নিয়মিত রক্ত দেওয়া নিজের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পাপ্পু শিকদারের বলেন, আমরা ১২ বন্ধুর আড্ডা খানা থেকে শুরু ব্লাড ট্রান্সফিউশন অর্গানাইজেশনের। গত পাচ বছর ধরে রক্তের প্রয়োজনে ছুটে চলছি। যেখানে খবর পাচ্ছি সেখানেই যাচ্ছি। কখনো ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেছি রক্ত দেওয়ার জন্য। আমাদের সংগঠনের সকল সদস্যই রক্ত দিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকে। কখনও জরুরী কাজ রেখেও চলে আসে রক্ত দেওয়ার জন্য। নিজের রক্ত দিয়ে যখন একজনের উপকার করি তখন মনটা ভরে যায়।
সংগঠনের সভাপতি নিপু মাদবর বলেন, আমাদের মূল কাজ মানষের সেবা করা। লাল কনা দিয়ে তাদের বাঁচানো। আমাদের সংগ্রহে সকল গ্রুপের রক্ত রয়েছে। রাতে বৃষ্টিতে আমরা ছুটে যাই তাদের কাছে রক্ত দেওয়ার জন্য। রক্ত দিয়ে আবার নিজেরমত ছুটে চলে আসি। কারো থেকে কিছু নেই না আমরা রক্ত দান করে। করোনার সময় সংগঠনের সদস্যরা যেখানে প্রয়োজন সেখানেই ছুটে গিয়েছে রক্ত দেওয়ার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।