শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি
শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ফল ও সবজি চাষে বাবুল দালালের ভাগ্য বদল

ফল ও সবজি চাষে বাবুল দালালের ভাগ্য বদল
ভেদরগঞ্জের রামভদ্রপুরে বাবুল দালালের ফল বাগান। ছবি-দৈনিক হুংকার।

মৌসুমী ফল ও সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার বাবুল দালাল। গতানুগতিক ফসল চাষের বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে এসে উন্নত জাতের ফল তরমুজ, থাই পিয়ারা, কার্টিমন আম, বারি মাল্টা-১, ভিয়েতনামি বারো মাসি মাল্টা, কলোম্ব লেবু, নানাজাতি কলা, গ্রীনলেডি, সুইটলেডি ও রেডলেডী পেপে চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। তার দেখাদেখি বহু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই সব বিদেশি ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক।
বাবুল দালাল জানান, বেসরকারি চাকুরী জীবনে স্বল্প আয়ে দুই ছেলে ও দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। ২০১৮ সালে সে চাকুরী ছেড়ে এসে চাষাবাদ শুরু করি। প্রথম দিকে ধান, পাট ও গমের মতো পরিচিত ফসল চাষ শুরু করি। ভালো ফলন না পাওয়ায় চার দিকে অন্ধকার দেখতে থাকি। লোক মুখে শুনে তৎকালি ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার শাখাওয়াৎ হোসেন স্যারের সাথে যোগাযোগ করি। তিনিই আমাকে ফল চাষ করার পরামশ্য দেন। তার সহযোগিতায় ২০১৯ সালে গ্রীষ্মকালিন গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ আবাদের মাধ্যমে মৌসুমী ফল চাষ শুরু করি। এ বছর মাশাআল্লাহ ব্যাপক লাভের পরে ২ একর জমি ভাড়া নিয়ে থাই পেয়ারা চাষ করি। প্রথম বছর খুব বেশি লাভ না পেলেও পরের বছর নিজের উৎপাদিত চারা দিয়ে আরো একর সহ মোট ৩ একর জমিতে পিয়ারা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হই। এর পরে আমাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে ২ একর জমিতে কার্টিমন আমের বাগান, ১ একর জমিতে থাই পেয়ারা, ১ একর জমিতে ব্লাক ডায়মন্ড তরমুজ, ছাড়াও শশা, পেপে, লেবু ও কলা আছে।
বাহার উদ্দিন শেখ জানান, ড্রাগন চাষে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় খুবই কম। সাধারণত জৈবসার প্রয়োগ করেই ভালো ফলন পাওয়া তার কাছ থেকে চারা গ্রহণ করে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বাঐকান্দি গ্রামের কামরুল খান ফল চাষ করছেন। সে জানান বাবুল দালাল আমাদের তরুন ও উদিয়মান কৃষকদের জন্য আর্দশ। তার দেখানো পথে আমরা ও মৌসুমী ফলও চারা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ হাসিব বলেন, কৃষি এখন সৌখিন পেশা নয়, কৃষি বানিজ্যিকী করণের মাধ্যমে বাবুল দালাল নিজে সফল, তার দেখাদেখি আমাদের উপজেলার আরো ৩০/৩৫ জন কৃষক মৌসুমী ফল ও সবজি আবাদ করে সাবলম্বী হয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, বাবুল দালাল আমার দৃষ্টিতে একজন আন্তরিক ও পরিশ্রমি কৃষক। সে বিষ ও রাসায়নিক মুক্ত ফসল আবাদে আমাদের উপজেলার মডেল। তাকে আমাদের কৃষি বিভাগের অহংকার বলতে পারি। কারণ আমরা তাকে প্রশিক্ষণ, পরামশ্য যাই দেই বাবুল তার শ্রম ও মেধার মাধ্যমে কৃষিতে দ্বিগুন প্রতিদান দেন। পাইকার ও বিক্রেতারা বাবুল দালালের উৎপাদিত ফল ও সবজি জমি থেকেই নিয়ে যায়। সে নিজেই ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করে তার জমিতে ব্যবহার করে। তার সবচেয়ে বড়গুন হচ্ছে চাহিদা ও অমৌসুমে বাবুল দালালের ফল ও সবজি বাজারে পাওয়া যায় তাতে সে বেশী লাভবান হয়ে থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।