বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সখিপুরে মালকান্দিতে আওয়ামীলীগ নেতার বাড়িঘরে প্রতিপক্ষের হামলা, আহত ১০

Auto Draft
প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুত্বর আহত ওসমান মালের পুত্রবধু রেহানা বেগম। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় সখিপুরের চরসেনসাস ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মাল কান্দী গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আওয়ামীলীগ নেতা ওসমান মাল সহ ১১ বাড়িতে প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সখিপুর মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার (৯ আগস্ট) সন্ধা ৭ টার সময় মাল কান্দি গ্রামে এ ঘটানাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক উভয়পক্ষের ৬ জনকে ভেদরগঞ্জ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। ওসমান মালের পক্ষের গুরুত্বর আহত রেহেনা বেগম (৩৫) এর অবস্থা আশংকা জনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
হামলার শিকার স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ ওসমান গনি মাল বলেন, ৯ আগস্ট সোমবার আমরা সাপ্তাহিক বাজার করার জন্য বালারহাটে যাই। ঐ সময় পুরুষ শুণ্য বাড়ী পেয়ে বিএনপি নেতা কুদ্দুস মাল, মুসা মাল, হযরত আলী মাল ও কালিম উদ্দিন মালের নেতৃত্বে এক দেড়শ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে আমাদের ৪টি বাড়ী সহ জয়নাল মাল, বিল্লাল সিকদার, নবীর হোসেন, জাহাঙ্গীরের বাড়ী সহ ১১টি বাড়ী ভাংচুর করে। তারা ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা সহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। এসময় একটি অটো গাড়িও ভাংচুর করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরসেনসাস ইউনিয়নের মাল কান্দি গ্রামের কুদ্দুস মাল ও ওসমান মালের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। এর সূত্র ধরে রবিবার মেছের মালের ছেলে নান্টু জাকির মালকে একা পেয়ে মারধর করে। পরক্ষণে কবির হোসেন কে পাল্টা মারধর করেছে জাকির মাল। পরদিন সোমবার সন্ধায় বিএনপি নেতা কুদ্দুস মাল, মুসা মাল, হযরত আলী মাল, মানিক মুসলমান, আলামিন মাল সহ ২ শ’তাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১১টি বাড়িতে হামলা চালায়।
আহত রেহেনা বলেন, আমি সেদিন আমার ঘরে একা ছিলাম, হটাৎ করেই আমার উপর রামদা ও বাশঁ দিয়ে হামলা চালায় কুদ্দুস মালের সন্ত্রাসী বাহিনীরা। আমাকে চুলের মুঠি ধরে মাবধর করে। আমার পড়নের জামা কাপড়ও ছিড়ে ফেলে। মানিক মুসলমান, মেসের মালের ছেলে নান্টু মাল, মাসুদ মাল ও ফয়সাল গাজী রামদা ও বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে ফেলে। পরে জীবন বাঁচাতে খাটের নিচে পালাই। আমার রক্ত দেখে ওরা পালিয়ে যায়। আমি অচেতন হয়ে পরি।
অভিযুক্তদের মধ্যে কুদ্দুস মাল মুঠোফোনে বলেন, গতকালকের ঘটানার পরে আজ সকালে ওসমাগনি মাল সহ অনেকেই আমাদের উপর হামলা করেন। এতে আমাদের ৫ জন আহত হয়েছে। আমাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। আমরা ভয়ে থানায় যেতে পারি নাই। তাই আদালতে মামলা করবো।
অপর দিকে স্থানীয় মোতালেব মুসলমান বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা ওসমান মালেরা দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ আমাদের জমি বেদখল করে রেখেছে। সেই জমি দখল করতে যাওয়ায় তারা আমাদের উপরে হামলা করেছে। এতে আমাদের ৭/৮টি বাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুই নারী ৫ জন আহত হয়েছে।
এবিষয় চরসেনসাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিতু মিয়া বেপারী বলেন, ওসমান মালের সাথে কুদ্দুস মালের জমিজমা ও ক্ষেতের ধানকাটা নিয়ে ঝামেলা ছিলো। কুদ্দুস মাল ও ওসমান মালকে আমি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম বিষয়টা নিয়ে আমরা সমাধানে বসবো। তবে গত সোমবার সন্ধায় কুদ্দুস মাল সহ তার ভাই ভাতিজারা মিলে ওসমান মালের বাড়িতে রামদা, লাঠিসেটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। আমি পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কুদ্দুস মাল ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি আমার কথা না শুনে যে কারো ইন্দনে আওয়ামীলীগ নেতার বাড়িতে হামলা চালায়। এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ মামলার এজাহার ভূক্ত মোহন মৃধা (৪৮) নামে একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করে চালান করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।